বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের দেশভক্তি এবং মানবসেবার গল্প বহু বছর ধরে নিঃশব্দেই চলছে। বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, কেন তাকে দুস্থদের ভগবান বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে তাকে ‘দেশবিরোধী’ বলা হলেও, শাহরুখ কখনও তাতে প্রতিশব্দে জবাব দেননি। বরং মানুষের পাশে থেকে দেখিয়েছেন তার দেশভক্তি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
পর্দার বাইরে তিনি কখনও বন্যা-প্রবাহিত গ্রাম দত্তক নিয়েছেন, কখনও কোভিডকালে দুস্থদের মুখে ভাত তুলে দিয়েছেন। ২০০৯ সালে ওড়িশার একটি গ্রাম দত্তক নেন, যা অন্ধকারে ছিল। ২০১২ সালে আরও ১২টি গ্রাম উন্নয়নের জন্য দত্তক নেন এবং সুনামির ত্রাণ তহবিলে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেন। এছাড়া নানাবতী হাসপাতালে শিশুরোগ চিকিৎসার জন্য একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলেছেন, যেখানে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা হয়।
২০১৪ সালে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামো উন্নয়নের জন্য ২৫ কোটি টাকা অনুদান দেন। পরের বছর চেন্নাইয়ের বন্যা ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি এবং উত্তরাখণ্ডের রাজ্য সরকারের তহবিলে ১০ কোটি টাকা দান করেন। বাবার নামে চালু করা মীর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অ্যাসিড আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদানের কাজ চালিয়ে যান।
কোভিডকালে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ হাজার পিপিই কিট পাঠানো, বন্যাবিধ্বস্ত পাঞ্জাবের ১৫০০ পরিবারের জন্য খাদ্য ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এসব কাজ সবসময় প্রচারের অন্তরালে রেখেছেন কিং খান। এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা এবং সমাজকল্যাণের কারণে তিনি আজও বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে বাদশা হিসেবে বিরাজমান।
পিআর/টিএ