'প্রি-ম্যাচিউর গ্রেইং' বা অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা। আয়নার সামনে দাঁড়ালে মাঝে মধ্যেই মাথায় রুপালি চুল উঁকি দিতে দেখলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
অনেকে এটিকে শুধু বংশগতি বা স্ট্রেসের কারণ বলেই মনে করেন। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাবই হতে পারে চুল পাকার মূল কারণ।
শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কিভাবে চুলের রং কেড়ে নেয় এবং কোন ডায়েট মেনে চললে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, তা জানাতেই আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক-
পুষ্টির ঘাটতি ও অকালে চুল পাকা : বিজ্ঞান কী বলছে?
আমাদের চুলের গোড়ায় থাকা ‘মেলানোসাইট’ কোষগুলো মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে, যা চুলকে কালো রাখে। শরীরে বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে এই মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে চুল ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে।
কোন কোন উপাদানের অভাবে চুল পাকে
ভিটামিন বি-১২ : এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
এর অভাবে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা সরাসরি চুল পাকানোর জন্য দায়ী। যারা আমিষ খেতে চান না, তাদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়।
কপার বা তামা : মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়ায় কপার এনজাইম হিসেবে কাজ করে। শরীরে কপারের অভাব হলে চুলের কালো রং ফিকে হয়ে যায়।
আয়রন ও জিংক : আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা দেখা দেয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। অন্যদিকে, জিংক চুলের কোষ মেরামতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ডি ও ই : সূর্যের আলো থেকে পাওয়া ভিটামিন ডি চুলের ফলিকলগুলোকে উদ্দীপিত রাখে। এর অভাব চুলকে অকালে বুড়িয়ে দেয়।
চুল পাকার হার কমাতে যে ৫টি নিয়ম মেনে খাবার খাবেন
সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেবল চুল পাকা রোধ করে না, বরং চুলের ঘনত্ব ও উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।
তাই এই বিষয়গুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার : চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। খাদ্যতালিকায় ডিম, ডাল, সয়াবিন ও সামুদ্রিক মাছ রাখুন। এটি মেলানোসাইট কোষগুলোকে সজীব রাখে।
কপার ও জিংকের উৎস : প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম (আমন্ড বা আখরোট) ও তিল বা কুমড়ার বীজ খান। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কপার ও জিংক থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে চুল কালো রাখতে সাহায্য করে।
ডার্ক লিফি ভেজিটেবলস : পালং শাক বা মেথি শাকের মতো গাঢ় সবুজ সবজিতে প্রচুর আয়রন ও ফলিক এসিড থাকে। এটি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে মেলানিন ধরে রাখে।
ভিটামিন সি যুক্ত ফল : আমলকী, লেবু বা পেয়ারা খান। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং কোলাজেন বাড়িয়ে চুলের অকাল বার্ধক্য রোধ করে। বিশেষ করে ‘আমলকী’ চুলের জন্য অমৃত সমান।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পানীয় : সাধারণ চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি বা বেরি জাতীয় ফল খান। এটি শরীরের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমিয়ে চুল পাকা প্রতিরোধ করে।
বংশগতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা সহজ। তাই আজ থেকেই ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর ডায়েট শুরু করুন। মনে রাখবেন, চুলের যত্ন শুধু বাইরে থেকে তেল মেখে হয় না, বরং ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোই আসল রহস্য।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
এমআই/এসএন