কনকনে শীত নামলেই অনেকের সকাল শুরু হয় কাঁপুনি আর অস্বস্তি নিয়ে। মোটা জামা, মাফলার বা কম্বলে শরীর ঢাকলেও ভেতরের শীত সহজে কাটতে চায় না। কারণ শরীরকে উষ্ণ রাখতে শুধু বাহ্যিক সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, দরকার ভেতর থেকে তাপ তৈরি করার শক্তি। আর সেই শক্তির বড় উৎস হলো সঠিক খাবার। শীতের দিনে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শরীর উষ্ণ থাকে, বাড়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, কমে সর্দি-কাশি কিংবা দুর্বলতার ঝুঁকি।
শীতকালে তুলসী আর আদা যেন প্রকৃতির দেওয়া এক অনন্য উপহার। এই দুই উপাদান শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমায় এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রতিদিনের রান্নায় আদার ব্যবহার কিংবা সকালে এক কাপ গরম আদা-পানি শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই উষ্ণ রাখে।
রাতের বেলায় হলুদ মেশানো গরম দুধ অনেকের কাছেই শীতের চেনা সঙ্গী। এটি শুধু শরীর গরম রাখে না, ব্যথা-বেদনা কমাতেও সাহায্য করে। একইভাবে হলুদ চা বা মসলা চা শীতের সকালে শরীরের বিপাকক্রিয়া সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়, ফলে ভেতর থেকে আসে উষ্ণতার অনুভূতি, কমে খুসখুসে কাশি।
সর্দি-কাশির সময় মধুর কথা মনে পড়ে সবার আগে। প্রাকৃতিক এই উপাদান শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। আদার সঙ্গে গুড় খেলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতাও কমে। চায়ের কাপে চিনির বদলে খেজুরের গুড় ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় বাড়তি উষ্ণতা।
শীতের দিনে এক বাটি গরম স্যুপ যেন আলাদা প্রশান্তি এনে দেয়। টমেটো, গাজর কিংবা নানা রঙের সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ শরীর গরম রাখার পাশাপাশি পানিশূন্যতা দূর করে। ডাল, বার্লি কিংবা মুরগি দিয়ে বানানো স্যুপ শীতের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন সহজেই।
এই সময় প্রোটিনের চাহিদাও বেড়ে যায়। ডিম সহজলভ্য ও পুষ্টিকর, আর পরিমিত পরিমাণে মাংস শরীরের তাপ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত লাল মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। শীতের আরেক পরিচিত খাবার মিষ্টি আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে থাকা ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ শরীরকে শক্ত রাখে এবং দীর্ঘ সময় উষ্ণতা ধরে রাখতে সহায়ক।
বাদাম ও শুকনা ফল শীতকালে শক্তির বড় উৎস। অল্প পরিমাণ বাদাম নিয়মিত খেলে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। পাশাপাশি খেজুর, কিশমিশ কিংবা অ্যাপ্রিকট শীতের দিনের জন্য আদর্শ খাবার। ফলের মধ্যে আপেলও শীতের জন্য উপকারী। এতে থাকা ফাইবার শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পানির ঘাটতিও কিছুটা পূরণ করে।
শীতের দিনে মরিচ, দারুচিনি, রসুন কিংবা নানা ধরনের সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর শুধু গরমই থাকে না, রোগের ঝুঁকিও কমে। শীত মোকাবিলায় তাই জামা-কাপড়ের পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ভেতর থেকে উষ্ণ থাকলেই শীতের দিন হয়ে উঠবে আরামদায়ক।
এমকে/এসএন