কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে বিএনপি নেতাসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে নাগেশ্বরী পৌর শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মিনারুল ইসলাম। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ছাড়া, বাকিরা হলেন- রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের আহাদুজ্জামানের ছেলে শাহজামাল, কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেম ছেলে বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের কন্যা জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের বোয়ালভির গ্রামের মৃত নাজির হোসেন সিদ্দিকির ছেলে আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেক মৃধার ছেলে হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের ইদ্রিস মোড়লের কন্যা চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন, চরদামাল গ্রামের ময়নাল হকের ছেলে আনেয়ার হোসেন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লা হিল জামান দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, আটকের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আটককৃতরা বর্তমানে থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া, বিএনপি নেতা মিনারুল ইসলামকে আটকের ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, সে যদি সত্যি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে দল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপিতে এ ধরনের কোনো লোক থাকতে পারবে না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) স্বপন কুমার রায় বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে মোট ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল।
টিজে/টিকে