ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মাওলানা মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) আপিল আবেদনের শুনানিতে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তার ভাই আসাদ আনসারী।
সাঈদ আনসারী ইসলামিক বক্তা ও টেকেরহাটের পীরজাদা। এ নিয়ে মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়েছেন মোট ৯ জন প্রার্থী।
এর আগে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এই আসনের ১০ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাঈদ আনসারীসহ দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে সাঈদ আনসারী আপিল করেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের যে সমর্থন তালিকা জমা দেন, তা যাচাইয়ের সময় ১০ জনের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর পরীক্ষা করা হয়। এ সময় একজন সমর্থকের জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের অমিল পাওয়া যায়। এ কারণেই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। পরে ওই সিদ্ধান্তে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে কমিশন তার প্রার্থিতা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয়।
মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দলীয় ব্যানার বা দলীয় সাইনবোর্ডের কারণে জনগণের মূল আকাঙ্খা পূরণ হয় না। কারণ প্রার্থী মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। সাধারণ জনগণের চাহিদা পূরণ, দেশ ও জাতিকে সেবা দিতে এবং বিভিন্ন ধর্মের লোকজনকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য সংসদ সদস্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবো, যেন অসুস্থ মা-বোনদের দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করাতে পারি। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করবো, যার দ্বারা শিক্ষার আলোয় যুব সমাজ আলোকিত হবে। আমি চাই মাদারীপুর-২ আসন আরও আলোকিত ও আলোচিত হোক।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় কিছু মাদকের সয়লাভ আছে। কোন কোন জায়গায় অধিকাংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভাবে গোপনে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। এই মাদকমুক্ত করার জন্য একজন অরাজনৈতিক ফিগার প্রয়োজন। তাই এই আসনে সকলের সেবা দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম বলে আমি মনে করি।
জানা যায়, মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের পীর সাহেব মরহুম দেলোয়ার হোসেন আনসারী (র.) এর মেজো ছেলে। তার জন্ম ১৯৭৬ সালের মার্চ মাসের এক তারিখে। তিনি রাজধানী ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে কামিল হাদিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। বর্তমানে স্বরমঙ্গল টেকেরহাট রাশিদিয়া কামিল মাদরাসার ভাইস চেয়ারম্যান ও টেকেরহাট আল-হেরা মহিলা আলিম মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গঙ্গারামপুরে মার্কাস নূর আল ইসলামি মাদরাসা ও টেকেরহাট আল-হেরা ইসলামি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।
মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবহান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মনোনীত সুবল চন্দ্র মজুমদার ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) শহীদুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. মহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলী আহম্মদ চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মোহাম্মদ দিদার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিল্টন বৈদ্যসহ মোট ৯ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এসকে/টিকে