ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়ক মিশা সওদাগর। পর্দায় যতটাই ভয়ংকর, বাস্তব জীবনে ঠিক ততটাই শান্ত ও পারিবারিক। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নেপথ্যে যে মানুষটি নীরবে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি তার স্ত্রী জোবায়দা রব্বানী মিতা। ভালোবাসা, ত্যাগ আর অগাধ বিশ্বাসে গড়া এই দাম্পত্যের গল্প যেন রুপালি পর্দার চেয়েও গভীর!
মিশা–মিতার সম্পর্কের শুরুটা সহজ ছিলো না! দু’জনের ভালোবাসার বিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সম্মতি পায়নি। তবুও বিশ্বাস আর সাহসকে সম্বল করে ১৯৯৩ সালে তারা গাঁটছড়া বাঁধেন। বিয়ের চার–পাঁচ মাস না যেতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন মিতা। ‘আশা-ভালোবাসা’ ছবির শুটিংয়ে ১৭ দিনের জন্য আউটডোরে চলে যান মিশা। আর ঢাকায় থেকে নতুন সংসার, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা আর অজানা গৃহস্থালির দায়িত্ব- সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয় মিতাকে।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে মিতা জানান, তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, রান্নাবান্না কিছুই পারতেন না। নতুন সংসার নিয়ে একা থাকা, স্বামীকে না পাওয়া; সব মিলিয়ে সময়টা ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। তবুও অভিযোগ নয়, বরং সেই দিনগুলোই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন তিনি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিশা সওদাগর হয়ে ওঠেন ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেতাদের একজন। এমন দিনও গেছে, ডে-নাইট মিলিয়ে চার–পাঁচটি ছবির শুটিং করেছেন তিনি। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যেও মিতার মনে কখনও সন্দেহ বা অভিযোগ জন্ম নেয়নি। তিনি কখনও জানতে চাননি কোন ছবির শুটিং, কে নায়ক বা নায়িকা।
মিতার ভাষায়,“সে এত নায়িকার সাথে শুটিং করেছে কখনও আমার জেলাস ফিল হয়নি। কারণ, আমি জানি মিশা চরিত্রবান, সৎ মানুষ। সে তার কাজকে সম্মান করে, মানুষকে ভালোবাসে। সে তার স্ত্রী সন্তান ও পরিবারকে সম্মান করে।”
মিতা মনে করেন, তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস। সকালবেলা শুটিংয়ে বেরিয়ে মধ্যরাতে মিশা যখন ঘরে ফেরেন, তখনও তিনি ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করেন। মিতার ভাষ্য, “আসলে আমাদের মধ্যে শুরু থেকে আজও বিশ্বাসটা অনেক মজবুত। সকালে যখন মিশা শুটিং থেকে বের হয়, এরপর থেকে সে ঘরে ফেরে মধ্যরাতে, আমি প্রতি মুহূর্তেই তার জন্য অপেক্ষায় থাকি।”
দীর্ঘ তিন দশকের দাম্পত্যে এই বিশ্বাসই তাদের শক্তি। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান। ক্যারিয়ারের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করেন মিশা সওদাগর। নানা সাক্ষাৎকারে স্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করতে দেখা যায় তাকে।
মিশা–মিতার প্রেমকাহিনি তাই কেবল তারকাদের গল্প নয়; এটি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপড়া আর নিঃশর্ত বিশ্বাসের এক জীবন্ত উদাহরণ।
কেএন/টিকে