লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের মারামারিতে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে দলটির এমপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এসময় তিনি উভয়পক্ষের আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। মারামারির ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়ে এ্যানি চৌধুরী বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা দিয়েছে, মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। শান্তিপূর্ণ এবং সুন্দর একটি নির্বাচন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশার জায়গা।
ভবিষ্যতে যেন আমাদের এই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না হয়। মারামারির ঘটনায় কীভাবে সুন্দর সমাধান এবং সুন্দর একটি নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করা যায় সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান তিনি। এসময় এ্যানি জানান, মারামারির ঘটনায় পুলিশ ও জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মারামারির ঘটনার উৎপত্তিস্থল কোথায়? এটা আমাদেরকে খুঁজে বাহির করতে হবে। মহিলা মিটিং হবে খুবই স্বাভাবিক। একটা বাড়িতে অথবা মহিলা মিটিংয়ে গিয়ে আইডি কার্ড গ্রহণ করা এটা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনে পড়ে কি না? আইডি কার্ডের ফটোকপি নেওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। এটি ঘটনার উৎপত্তিস্থল হতে পারে।
প্রশাসন এটি তদন্ত করে সুন্দর একটি পদক্ষেপ নেবেন। এখনো খুব বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। যতটুকু হয়েছে, এটা এখানেই নিষ্পত্তি করতে হবে, শেষ করতে হবে।
সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে মহিলা জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দিনের বাড়িতে ভোট চাওয়ার জন্য যায়। এসময় তারা সেখানে ভোটার আইডি কার্ড চায়।
এটি কেন প্রয়োজন, এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলারা চলে যায়। ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক চলমান ছিল।
একপর্যায়ে সন্ধ্যায় চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতল এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়।
এদিকে সন্ধ্যায় ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়৷ উভয়পক্ষের উত্তপ্ত স্লোগানে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হামলার বিচারের দাবিতে জামায়াত শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শহরে টহল দেয়।
এমআই/এসএন