ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই নানা সময়ে ইউরোপের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন রুশ নেতারা। এবার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের জোর সম্ভাবনার কথা বললেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই কারাগানভ। শুধু তাই নয়, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের যথাযথ সময়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। দ্য হিল।
সের্গেই কারাগানভ রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনেরও একজন মিত্র ছিলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনের ‘দ্য টাকার কার্লসন শো’-তে এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সময়ের কথা বলতে গিয়ে কারাগানভ বলেন, ইউক্রেনের সাথে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া যদি কখনও পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়, তাহলে দেশটি ইউরোপের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
তার ভাষায়, ‘রাশিয়ার পরাজয় কী? যদি রাশিয়া কখনও পরাজয়ের কাছাকাছি চলে আসে, তাহলে এর অর্থ হবে যে রাশিয়া এখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে এবং ইউরোপ কাঠামোগতকভাবে শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তাই আমি বলতে চাইছি, এটা সম্পর্কে চিন্তা করাও অসম্ভব। তবে তারা কথা বলছে কারণ তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য, নিজেদের অস্তিত্বকে যুক্তিসঙ্গত করার জন্য তাদের একটা যুদ্ধের প্রয়োজন।’
কারাগানভ বর্তমানে পুতিনের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার কাউন্সিল ফর ফরেন অ্যান্ড ডিফেন্স পলিসির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার পরাজয় হবে এমন ভাবনা আসলে ‘কল্পনাপ্রসূত বিভ্রম’ এবং এই ধরনের মন্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতার’ কারণে বের হয়।
কারাগানভ সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিশ্বের সবাই এখন ইউরোপকে নিয়ে হাসে, যা আগে বিশ্বশক্তির অন্যতম কেন্দ্র ছিল। তারা এখন একটা রসিকতায় পরিণত হয়েছে। এবং অবশ্যই, আমি সমস্ত ইউরোপের কথা বলছি না। আমরা জানি যে শালীন ইউরোপীয়রা আছে। বুদ্ধিমান ইউরোপীয়রাও আছে।’
কারাগানভ রুশ সরকারের ইউরোপের প্রতি ‘অতিরিক্ত ধৈর্যশীল’ থাকার সমালোচনাও করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ হোক কাল হোক, যদি অসংখ্য ইউক্রেনীয় এবং অন্যান্যদের বলি দিয়ে তারা এই যুদ্ধকে সমর্থন অব্যাহত রাখে, তাহলে আমাদের তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গত বুধবার রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাথে শান্তি চুক্তির গতি কমিয়ে দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন যেখানে রাশিয়া ‘চুক্তি করতে প্রস্তুত’ সেখানে চুক্তি আটকে রেখেছেন জেলেনস্কি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই টাকার কার্লসনকে সাক্ষাৎকার দেন কারাগানভ।
কারাগানভ বলেন, ‘মানবতার মানচিত্র থেকে ইউরোপকে মুছে ফেলা উচিত। ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত এজেন্ডা থেকে এটাকে বাদ দেয়া উচিত, কারণ এটি একটি অর্থহীন কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বোকারা শারীরিক যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। আজ হোক কাল হোক, আমাদের আরও উচ্চতর স্তরের উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের আক্রমণ করতে হবে - প্রথমে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে, তারপর পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে।’
তার কথায়, ‘আমি মনে করি পুতিন বিশ্বাস করেন (এবং আমিও তাই বিশ্বাস করি) যে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার একটি পাপ। কিন্তু সম্ভবত মানবতাকে বাঁচানোর জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় পাপ। আমি ইউরোপের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের সীমিত ব্যবহারের আহ্বান জানাই। অন্যথায়, বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়বে।’
টিজে/টিকে