করোনাভাইরাস: বারবার মুখমণ্ডল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন
ইতিমধ্যে দেড়শটির বেশি দেশে নোভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও রোগটি সনাক্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতার মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি হতে রোগটি সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। রোগটি মূলত ছড়াচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি হতে নিঃসরিত ‘ড্রপলেট’ বা ক্ষুদ্র ভাইরাস কণার মাধ্যমে। ভাইরাসটি আপনার নাক, মুখ বা চোখ দিয়ে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ কোনোভাবে আপনার হাত ড্রপলেটের সংস্পর্শে এলেই আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবেন না। তবে ওই হাত ধোয়ার আগে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে ভাইরাসটি আপনার দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং আপনি আক্রান্ত হবেন। তাই অপরিষ্কার হাত দিয়ে বারবার মুখমণ্ডল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির সংক্রমণ ঠেকাতে বারবার হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, গড়ে আমরা প্রতি ঘণ্টায় ১৬ বার হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করি। আমরা যেহেতু প্রতিদিন বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করি এবং সেই হাত দিয়েই মুখমণ্ডল স্পর্শ করি তাই এভাবে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
আসুন জেনে নিই, হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করা থেকে কিভাবে বিরত থাকা যায়
হাত ব্যস্ত রাখুন
সব সময় কোনো কাজে হাত ব্যস্ত রাখুন। হাত ব্যস্ত থাকলে মুখমণ্ডল স্পর্শ করার প্রবণতা কমে যায়। আপনি আপনার ডেস্কে একটি ‘স্কুইজ বল’ রাখতে পারেন। তাছাড়া আপনি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলেও মুখমণ্ডল স্পর্শের প্রবণতা কমে আসবে।
সব সময় সঙ্গে টিস্যু পেপার রাখুন
নিয়মিত বিরতিতে আপনার নাক, চোখ বা ঠোট স্পর্শ করতে বা চুলকাতে ইচ্ছে করতে পারে। তাই সঙ্গে টিস্যু রাখতে পারেন। এমন অবস্থায় টিস্যু দ্বারা মুখমণ্ডল স্পর্শ করতে বা চুলকে নিতে পারেন। ব্যবহার শেষে টিস্যুটি নিরাপদ স্থানে ফেলুন।

নিজেকে এর গুরুত্ব স্মরণ করান
বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মুখমণ্ডল স্পর্শ না করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই গুরুত্বের কথা বারবার স্মরণ করুন। মুখমণ্ডল স্পর্শ করা কত বড় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে তা স্মরণ করুন।
বারবার হাত ধৌত করুন
বারবার ও নিয়মিত হাত ধৌত করুন। বিশেষ করে বাড়ির বাইরে গেলে ফেরার পর অবশ্যই হাত ধুতে ভুলবেন না। হাত ধোয়ার জন্য সাবান অথবা অ্যালকোহল নির্ভর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
টাইমস/এনজে/জিএস