ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রধান অপরাধী। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষের সামনে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে এ প্রসঙ্গে “অপরাধী” হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রকৃতি, এতে ব্যবহৃত কৌশল ও এর মোকাবিলায় ইরানের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন দেশটির সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় নেতা।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি বলেন, ‘অতীতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও ইউরোপ-আমেরিকার দ্বিতীয় সারির রাজনীতিকরা এতে জড়িত থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় ব্যতিক্রম হলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করেছেন, দাঙ্গাকারীদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং এমনকি সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এতেই প্রমাণ হয়, সাম্প্রতিক অস্থিরতা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে সৃষ্ট একটি ষড়যন্ত্র। এর পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি, আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গ্রাস করা।’
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি বলেন, ‘ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে মার্কিন আধিপত্য ভেঙে পড়েছে। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটি কোনো একক প্রশাসনের নীতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলের অংশ।’
ইরানের মতো বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা, ভৌগোলিক ব্যাপ্তি এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিসম্পন্ন একটি দেশকে সহ্য করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন ইরানের শীর্ষ এই নেতা। তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক দাঙ্গায় যারা আগুন দিয়েছে, সম্পত্তি পুড়িয়েছে, নাশকতা চালিয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র তাদেরই ‘ইরানি জনগণ’ হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি ইরানি জাতির বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ এবং গুরুতর অপরাধ।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী উভয়ই এ ঘটনার জন্য দোষী বলে জানান খামেনেয়ি। বলেন, ‘দাঙ্গার পেছনে থাকা অনেক এজেন্টকে আমেরিকান ও ইসরায়েলি সংস্থাগুলো শনাক্ত, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ করেছে। তাদের ভয় ছড়ানো, ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও জনশৃঙ্খলা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং বিপুল আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়েছিল।’
ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং এসব চক্রের অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেব না, তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরও শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেব না।’
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নেয়। দাঙ্গাকারীরা দেশের বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে এবং সরকারি অবকাঠামোতে হামলা চালায়। ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একসময় টুইট করে লিখেছিলেন, ‘রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে এবং তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।’ একইভাবে ফারসি ভাষায় এক পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে দাবি করে, তারা কেবল দূর থেকে নয়, মাঠে থেকেও দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে রয়েছেন।
পিএ/টিকে