প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, লড়াইটা ছিল পয়েন্ট টেবিলের শ্রেষ্ঠত্বের। সেই মর্যাদার লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গ্রুপ পর্বের সেরা দল হিসেবেই এখন কোয়ালিফায়ারে লড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১২৬ রান তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের বোলিং তোপে শুরুতেই কাঁপছিল রাজশাহী। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তরুণ আকবর আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ হাসি হাসে বরেন্দ্র অঞ্চলের দলটি।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে রাজশাহী। শরিফুলের আগুনে বোলিংয়ে দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। জিমি নিশাম রান আউট হলে বিপর্যয় আরও বাড়ে। তবে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও আকবর আলী। দুজনে মিলে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৪৮ রানে আবু হায়দার রনির বলে আউট হন আকবর। এরপর রায়ান বার্ল (০) ও তানজিম সাকিবকে (২) দ্রুত ফিরিয়ে শেখ মেহেদী ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি করলেও মুশফিক কোনো অঘটন ঘটতে দেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে জাহানদাদ খানকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর বোলারদের দাপটে মাত্র ১২৫ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। আসরজুড়ে দারুণ খেলা চট্টগ্রামের টপ অর্ডার এদিন পুরোপুরি ব্যর্থ। রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন নাঈম শেখ। মোহাম্মদ হারিস (১৬) ও মাহমুদুল হাসান জয় (১৯) থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
মিডল অর্ডারে মাহফিজুল, হাসান নাওয়াজ ও শেখ মেহেদীরা ব্যর্থ হলে ৭৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে একশর নিচে অলআউটের শঙ্কায় পড়ে চট্টগ্রাম। তবে শেষদিকে আসিফ আলী ত্রাতা হয়ে আসেন। সঙ্গীর অভাবে ধুঁকতে থাকলেও একাই ঝড় তোলেন তিনি। ২৪ বলে ৪ ছক্কায় সাজানো তার ৩৯ রানের ইনিংসটিতে ভর করে ১২৫ রানের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। কিন্তু মুশফিক-আকবরের দৃঢ়তায় সেই পুঁজি জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকেই প্লে-অফ পর্ব শুরু করবে রাজশাহী।
আরআই/টিকে