আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও একটি হতাশার গল্প যোগ হলো মোহাম্মদ সালাহর। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) সেমিফাইনালে সেনেগালের বিপক্ষে হারের পর এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে ব্রোঞ্জও পাওয়া হলো না লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ডের। উল্টো টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে বনে গেলেন খলনায়ক।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে গতকাল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে মিসরকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় নাইজেরিয়া। ‘সুপার ঈগলসরা’এই জয়ের মাধ্যমে রেকর্ড নবমবারের মতো আফকনের ব্রোঞ্জ পদক জিতল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ডও বজায় রাখে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ছিলেন মোহামেদ সালাহ ও ভিক্টর ওসিমেন দুজনেরই গোল ছিল ৪টি করে, মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজের (৫ গোল) ঠিক পেছনে। তবে ওসিমেনকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি, ফলে গুঞ্জন থাকা শেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দিয়াজকে টপকে যাওয়ার আশা নিয়ে নজর ছিল সালাহর দিকেই। তবে হতাশ করেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর পাশাপাশি মিসরের আরেক খেলোয়াড় ওমর মারমুশও পেনাল্টি মিস করেন। প্রথমে পেনাল্টি শট নিতে আসা সালাহ ও ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ওমর মারমুশ দুজনেরই নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলকিপার স্ট্যানলি নোয়াবালি। শেষ স্পট-কিকটি সফলভাবে আদায় করে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে নাইজেরিয়া, আর মিসরকে থামতে হয় চতুর্থ স্থানেই যা ১৯৮৪ সালের পর তাদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স।
পুরো টুর্নামেন্টে মিসরের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সালাহ। সেমিফাইনালের আগে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তারঁর শেষ মুহূর্তটি হয়ে থাকল হতাশারই।
স্বর্ণ থেকে ব্রোঞ্জে জয়ের লড়াইয়ে নামা দুই দলের কোচই একাদশে বড় ধরনের রদবদল করেন। সেমিফাইনালে মিসর সেনেগালের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়, অন্যদিকে নাইজেরিয়া মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হার মানে।
মরক্কোর মাঠ স্তেদ মোহাম্মদ ভি’তে পুরো ম্যাচজুড়ে মরক্কোর সমর্থকেরা দুয়ো আর শিস দিয়ে ফারাওদের চাপে রাখে। প্রথম বড় সুযোগটি আসে আকোর অ্যাডামসের কাছ থেকে। তার নেওয়া হেডটি নাইজরিয়ার ফরোয়ার্ড পল ওনুয়াচুর সামান্য স্পর্শে জালে জড়ায়। তবে ভিএআরে বাতিল হয় গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় নাইজেরিয়া, তবে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ৭৯তম মিনিটে ওমর মারমুশের নেওয়া একটি দ্রুত প্রতি আক্রমণ থেমে যায় সেমি আজাইয়ের চ্যালেঞ্জে সিটির তারকা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে। কিছুক্ষণ পর অপর প্রান্তে আকোর অ্যাডামসের পেনাল্টির আবেদনও সাড়া দেয়নি রেফারি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের কোনো নিয়ম নেই। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বারে মতো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোনো ম্যাচ গোলশূন্য ড্রতে শেষ হলো। প্রথমে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন নাইজেরিয়ার ফিসায়ো ডেলে-বাসিরু, তবে তার শটটি সহজেই বুঝে নিয়ে ঠেকিয়ে দেন মিসরের বদলি গোলকিপার মোস্তাফা শোবেইর। এরপর মিসরের হয়ে শট নিতে আসা সালাহকে রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলকিপার।
নাইজেরিয়ার দ্বিতীয় পেনাল্টি নেন অ্যাডামস। শোবেইরকে ভুল পথে পাঠিয়ে দারুণ দক্ষতায় দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মারমুশের পেনাল্টিও সেভ করেন নোয়াবালি। মোসেস সাইমন ঠান্ডা মাথায় নিজের পেনাল্টি জালে পাঠিয়ে সুপার ঈগলসদের ব্যবধান বাড়ান। এরপর রামি রাবিয়া গোল করে মিসরকে আবার ম্যাচে ফেরান।
নাইজেরিয়ার হয়ে অ্যালেক্স ইওবি শোবেইরের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে টাইব্রেকারে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। তবে মাহমুদ সাবের পাল্টা জবাব দেন দারুণ এক শটে উপরের বাঁ কোনায় জোরালো ফিনিশিংয়ে, নোয়াবালির কিছুই করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত লুকম্যান রাতের সেরা পেনাল্টিটি নিয়ে নাইজেরিয়ার ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন এবং আগের পেনাল্টি শুটআউটের হতাশার কিছুটা হলেও ঘোচান।
এসএস/টিকে