যেতে হবে কুয়াকাটা, ছুটে গেল বাস। চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। ডাক্তার দেখাতে দেখাতেই এমন দেরি হয়ে গেল- যে বাস মিস হয়ে গেল। এরপর? ভোরে শুটিং, তাই ভাড়া করে নিলেন প্রাইভেট কার।
ঢাকা প্রাইভেট কার ছুটল রাতের বুক চিড়ে। প্রথমবার একা এতো দীর্ঘ জার্নি, তাই ভয় ছিল মনে, মগজে। কিন্তু জীবনে যে ভয়ের পথ পেরিয়ে এসেছেন সেটার চেয়ে কি এই ভয় বড়? বুঝলেন, সিদ্ধান্ত নিলেন, কেয়া আল জান্নাহ বোঝালেন নিজেকে।
ভোরে পৌঁছালেন কুয়াকাটা।
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস, নির্ঘুম রাতের ক্লান্তিকে মুছে দিতে চাইল। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন, যুক্ত হলেন চলচ্চিত্রে; অভিষিক্ত হলেন চলচ্চিত্রের শিল্পী হিসেবে। কেয়া বললেন, ‘আমাদের শুটিং শুরু হবে ভোরে, এটা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। কেননা বাস মিস করেছি।
শুটিং শুরু হলো সৈকত থেকে একটু দূরে ঝাউবনের কাছে। খুব একটা সমস্যা হয়নি। ছোটখাটো কিছু ব্যাপার ছাড়া সুন্দরভাবেই শুটিং শেষ হয়েছে।’
কেয়া আল জান্নাহর ক্যারিয়ারের পুরোটাই বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক। এখন পর্যন্ত ২০ টার মতো বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।
২০১৬ সালে প্রথম শোবিজে পা রাখেন। বিজ্ঞাপন ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে চলচ্চিত্রে কাজ করলেন। কেয়া আল জান্নাহর প্রথম চলচ্চিত্র ‘এখানে রাজনৈতি আলাপ জরুরি’, প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসাও পাচ্ছেন। গণমাধ্যমকে বললেন, ‘প্রথমবার অভিনয় করলাম চলচ্চিত্রে। আমার সহশিল্পী ও পরিচিত যারা সিনেমা দেখেছেন, তারা ভালো বলছেন।’
নির্মাতা আহমেদ হাসান সানী ও চলচ্চিত্রের প্রযোজক খালিদ মাহবুব তুর্য'র মুখোমুখি হয়েছিলেন পূর্বেও। একটি বিজ্ঞাপনের জন্য কেয়া আল জান্নাহকে ডাকা হয়। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনে তার কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে কখনো কখনো ছোট সুযোগ হাত ফস্কে যায় বুঝি বড় প্রাপ্তির জন্যই। কেয়ার ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে। বললেন, ‘আমাকে প্রথমে বিজ্ঞাপনের জন্য ডাকা হয়েছিল। আমি অডিশন দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে নেওয়া হলো না। পরে আবার তারা আমাকে ডাকলেন। আর আমি এবার পেলাম চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ।’
সামনে আরো অভিনয় করবেন, শুধু চলচ্চিত্রে নয়- যে কোনো মাধ্যমে। কেয়া বললেন, ‘আমি কখনোই থিয়েটারে কাজ করিনি। অভিনয় সেভাবে করা হয়নি। তাই প্রথম সিনেমা নিয়ে একটু ভয়েই ছিলাম। তবে এখন মনে হচ্ছে আমি সব মাধ্যমে কাজ করবো। যেখানে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাবো; সেখানেই করবো। মানে অভিনয়ের কোনো মাধ্যম বাদ দেব না।’
স্থিরচিত্রের মডেল হিসেবে শোবিজে যাত্রা শুরু করেছেন ২০১৬ সালে। এরপর বিয়ে ও বিচ্ছেদ, সন্তানকে মানুষ করা ও একজন একক মা হিসেবে জার্নি; এটা খুব একটা সহজ ছিল না কেয়ার। বিশেষ করে যে ব্যাথা পেয়েছেন, যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন; সে ব্যাথাকে তিনি সফলতায় রূপান্তরিত করতে পেরেছেন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী।
‘আসলে বলে না পেইন থেকে গেইন? আমি সেটাই করেছি। সম্প্রতি বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপন রিলিজ হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনে আমি খুব ভালো অভিনয় করেছি এটা মানুষজন বলছে।
ফেসবুকেও মানুষজন বলছে। আমার কাছেও মনে হয়েছে এটা খুব চমৎকার একটি বিজ্ঞাপন। আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা একটি কাজ। আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি এই বিজ্ঞাপন। কেন এটা আমি ভালো করলাম জানেন? এতে অভিনয় করতে গিয়ে মনে হয়েছে এটা আমারই গল্প। বিয়ে, বিয়ের পরে বিচ্ছেদ। ভয়াবহ এক যন্ত্রণাময় সময়য়। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চলতে হবে- সুদীর্ঘ একা রাস্তা। ঠিক এই ভাবে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে আমি সফলতার পথ খুঁজে পেয়েছি।’ নিজের জীবনের গল্প ছুঁয়ে ক্যারিয়ারের সেরা কাজটিকে এভাবেই চিত্রত করলেন কেয়া আল জান্নাহ।
পিএ/এসএন