ফরাসি সাঁতার জগতের এক সময়ের পোস্টার বয় ইয়ানিক অ্যাগনেলের বিরুদ্ধে শুরু হতে যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর এক ধর্ষণ মামলার বিচার। দুইবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ীর বিরুদ্ধে নিজের সাবেক কোচের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি আদালত তার করা আপিল খারিজ করে দিয়ে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬ সালে যখন এই ঘটনাগুলো ঘটে তখন ভুক্তভোগী ছিল নেহায়েত এক কিশোরী।
তদন্তকারীদের মতে, ২০১৫ সালের শেষ থেকে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফ্রান্স, থাইল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন স্থানে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী অ্যাগনেলকে ২০২১ সালে প্রথম আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই কিশোরীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন যে সেখানে কোনো জোরজবরদস্তি ছিল না। তবে ফরাসি আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি গ্রাহ্য হয় না বরং একে সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইয়ানিক অ্যাগনেল ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল এবং রিলেতে স্বর্ণ জিতে বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি পেয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে চরম ব্যর্থতার পরপরই তিনি রহস্যজনকভাবে সাঁতার থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন। আইনজীবীরা তার বিচার প্রক্রিয়া ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আপিল আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দোষী সাব্যস্ত হলে এই অ্যাথলেটের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এই বিচারের দিকে এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব। আগামী ১০ দিনের মধ্যে অ্যাগনেল চাইলে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালতে শেষবারের মতো আবেদন করার একটি সুযোগ পাবেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তার পার পাওয়ার পথ এখন অনেকটাই রুদ্ধ। কিংবদন্তি সাঁতারুর এই অন্ধকার জীবন সামনে আসায় ফরাসি ক্রীড়াঙ্গনে চরম অস্বস্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্র: ইয়াহু
এমআর/টিএ