দীর্ঘ ২৫ বছরের আলোচনার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসুরের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। গতকাল শনিবার প্যারাগুয়েতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং মার্কোসুরভুক্ত দেশগুলোর (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে) প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তিটি ৭০০ মিলিয়ন মানুষের একটি বিশাল বাজারকে একত্রিত করবে এবং দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্টানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘এই চুক্তি বিশ্বে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের বদলে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব এবং শুল্কের বদলে স্বচ্ছ বাণিজ্যকে বেছে নিয়েছি।’
২০২৪ সালে এই দুই ব্লকের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১১ বিলিয়ন ইউরো। নতুন চুক্তির ফলে এই পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, তখন এই চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করতে সাহায্য করবে।’
তবে চুক্তিটি সই হলেও ইউরোপের ভেতরে বিশেষ করে ফ্রান্সের কৃষকেরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের ভয়, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সস্তায় মাংস ও কৃষি পণ্য ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এছাড়া আমাজন বন উজাড় করে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপে আসার সম্ভাবনা নিয়ে পরিবেশবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ভন ডার লিয়েন আশ্বস্ত করেছেন, চুক্তিতে পরিবেশ রক্ষা ও ন্যায্য বাণিজ্যের কঠোর শর্তাবলী রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড না দেওয়ায় ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক বসালেন ট্রাম্পগ্রিনল্যান্ড না দেওয়ায় ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা নিজে প্যারাগুয়েতে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন। তিনি এই চুক্তিকে ব্রাজিলের বাজার বৈচিত্র্যকরণের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ব্রাজিল বর্তমানে ভারত, কানাডা ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়ানোর আলোচনা চালাচ্ছে।
এদিকে যেদিন এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো, সেদিন সকালেই (স্থানীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে গঠিত এই ব্লকটি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত। বলিভিয়া এর পূর্ণ সদস্য হলেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সদস্যপদ স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার একটি কাস্টমস ইউনিয়ন।
এমআর/টিএ