খাদের কিনারায় ইরান, ঘুরে দাঁড়াবে নাকি পতন?

ইরানে রিয়ালের দরপতন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হওয়ার পর ব্যাপক সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। ২২ দিনের এ বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি, ইন্টারনেট বন্ধ ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এ আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্র বলছে। যদিও কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল পোস্ট বলছে, এ সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। এ হত্যাযজ্ঞের জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে খামেনি শাসনের পরিবর্তন চেয়ে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার আহ্বান জানান। একদিকে দেশে আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানি, বিক্ষোভকারীদের প্রবল বিরোধিতা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের চাপ—এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইরান খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি?

ন্যাশনাল পোস্টের এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন বলা হয়েছে, দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে এসেছে। এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ধর্মঘট ও নিরাপত্তা বাহিনীতে ভাঙন বা বিরোধ জরুরি। আপাতত সেসব লক্ষণ স্পষ্ট নয়। কিন্তু এত প্রাণহানির শোক ও তরুণদের ক্ষোভ সহজে যাবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্ষোভ ও ব্যাপক প্রাণহানি সত্ত্বেও ইরানের প্রশাসন টিকে গেলেও এটা শাসকের জন্য বড় ধাক্কা। এ সংকটের সত্যিকার সমাধান না করলে বা প্রশাসন এর গভীরতা না বুঝলে সামনে আরও বিপদ বাড়বে।

ইরানি রিয়ালের দরপতন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। একপর্যায়ে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। এতে প্রকাশ্য সমর্থন দেয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়ে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ নেবে বলে হুমকি দেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকি চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সহায়তা না করায় ট্রাম্প বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। এনডিটিভি বলছে, বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, তিনি (ট্রাম্প) আমাদের বোকা বানিয়েছেন, আমাদের প্রতারিত করেছেন।

এর আগের দিন খামেনি বলেন, হাজারো হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী। হাজারো মৃত্যুর কথা ‘স্বীকার’ করে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে খামেনি সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ‘হতাহতের ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি ও অপপ্রচারের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তবে জবাব দিতে দেরি করেননি ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি বলেন, ‘ইরানে বর্তমান শাসনকাঠামো ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’

পিএ/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
তোপের মুখে গম্ভীর, হারাতে পারেন চাকরী Jan 19, 2026
img
ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে শুরু পরিচ্ছন্নতা অভিযান Jan 19, 2026
img
‘ঢাকাকে আর অবহেলায় মরতে দেওয়া যায় না’ Jan 19, 2026
img
অবসরের পরিকল্পনা প্রকাশ করলেন সাদিও মানে, আপত্তি কোচের Jan 19, 2026
img
ইসির ওপর আস্থা আছে, আশা করি তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে: মির্জা ফখরুল Jan 19, 2026
img
আগামী প্রজন্মের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন : সেলিমুজ্জামান Jan 19, 2026
img
ঘুষের বিনিময়ে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা গ্রেফতার Jan 19, 2026
img
ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ফেরত এলো ৫৬০০ পোস্টাল ব্যালট: ইসি সানাউল্লাহ Jan 19, 2026
img
ঘরোয়া আয়োজনে বাগদান সারলেন অভিনেত্রী মধুমিতা Jan 19, 2026
img
ইলন মাস্কসহ ১২ ধনকুবেরের সম্পদ বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষের চেয়ে বেশি Jan 19, 2026
img
সারাদেশে আগমী ৫ দিনে শৈত্যপ্রবাহ নেই, তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা Jan 19, 2026
img
দ্বিতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে ইসির সামনে ছাত্রদল Jan 19, 2026
img

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি

আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ভাঙলো স্বর্ণ Jan 19, 2026
img
জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতন, শেখ হাসিনাসহ ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দিবেন কারা? Jan 19, 2026
img
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ আজ দুপুর ২ টায় Jan 19, 2026
img
সেলেনাকে এখনও ভুলতে পারেননি জাস্টিন বিবার? Jan 19, 2026
img
চানখারপুলে হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার, সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিটিভিতে Jan 19, 2026
img

শালিখা উপজেলা

১ বছরে ৫৮১ তালাক, অধিকাংশ নারীদের পক্ষ থেকে Jan 19, 2026
img
বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধ Jan 19, 2026
img
৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১০ হাজার শিক্ষার্থী Jan 19, 2026