কোরআন পড়ে অভিভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট কার্টারের ইসলাম গ্রহণ

এক সময় কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং ইসলামভীতির প্রভাবাধীন ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট কার্টার। আজ তিনি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় একজন মুসলিম। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের এই আমূল পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ইসলাম গ্রহণ ছিল তার জীবনের জন্য এক ধরনের ‘জীবনরক্ষাকারী অভিজ্ঞতা’।

৫পিলার নামের ইসলামিক একটি পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিজের অতীত জীবনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে রবার্ট কার্টার জানান, কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন পথহারা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একটি ভাঙা পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং যথাযথ অভিভাবক বা আদর্শ ব্যক্তিত্বের অভাব তাকে গভীর বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়। 
 
তিনি বলেন, ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে তিনি কট্টর ডানপন্থী চিন্তাধারা ও তথাকথিত ব্রিটিশ মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যদিও সেসব মূল্যবোধের প্রকৃত অর্থ তার কাছে তখন স্পষ্ট ছিল না।
 
পশ্চিমা সমাজের চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের দিকেও ইঙ্গিত করেন এই নওমুসলিম সাংবাদিক। তিনি বলেন, এমন কিছু বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ তার চিন্তাকে আচ্ছন্ন করেছিল, যেগুলো বর্তমানে স্কুল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষ নিজের পরিচয়, এমনকি লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও সংশয়ের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
 
তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যেদিন তিনি প্রথমবার পবিত্র কোরআন হাতে নেন। রবার্ট কার্টারের ভাষায়, সেটিই ছিল তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার দিন। 
 
তিনি বলেন, প্রপাগান্ডা ও ঘৃণার আবরণের আড়ালে থাকা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তিনি তখন আবিষ্কার করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং অনেক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম বিষাক্ত ইসলামোফোবিক বয়ান ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ভরা, যা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
 
ইসলাম গ্রহণের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের প্রকৃত সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন রবার্ট কার্টার। আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, শাহাদা পাঠের দিন তাঁর মনে হয়েছিল তিনি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছেন। এই বিশ্বাসই তাকে একটি আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছে।
 
ভ্রান্ত ধারণা, ঘৃণা ও বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে সত্যের পথে ফিরে আসার এই গল্প শ্রোতাদের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলেছে। রবার্ট কার্টারের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে কোরআনের প্রভাব ও আত্মিক পরিবর্তনের শক্তিকে।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ঢাকার-১৩ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৫ প্রার্থী Jan 20, 2026
img
খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান Jan 20, 2026
img
হাদি হত্যা মামলায় ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ Jan 20, 2026
img
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার Jan 20, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলের সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা বিকেলে Jan 20, 2026
img
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিক্যামেরা স্থাপনে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ Jan 20, 2026
দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপন? ঢাকায় বিএনপি প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক Jan 20, 2026
img
পরীর চেহারা দেখে দর্শক মুগ্ধ হয়ে যায় : চঞ্চল চৌধুরী Jan 20, 2026
img
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন প্রতিবেদন জমা কাল : অর্থ উপদেষ্টা Jan 20, 2026
img
কোনো ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে দেশকে পড়তে দেব না : মির্জা আব্বাস Jan 20, 2026
img
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ম্যাকরনের বার্তার স্ক্রিনশট শেয়ার করলেন ট্রাম্প Jan 20, 2026
img
ইচ্ছেপূরণ না হলে ৮ দেশে শুল্কারোপ করবেন ট্রাম্প Jan 20, 2026
img
‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করায় আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা Jan 20, 2026
img
ইউএই ও ভারতের ৩০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি Jan 20, 2026
img
ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশালে আসন ছাড়ল জামায়াত Jan 20, 2026
img
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর থেকে প্রায় ৫ টন কোকেন জব্দ করল ফরাসি নৌবাহিনী Jan 20, 2026
img
আরও ৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির Jan 20, 2026
img
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইন পরিচালনায় শিবিরের ৮ সদস্যের কমিটি গঠন Jan 20, 2026
img
পরিবর্তন হচ্ছে একটি মন্ত্রণালয়ের নাম Jan 20, 2026
img
যাদের ৩ টা ভোটও নেই, তারা হুমকি দিচ্ছেন নির্বাচন হতে দেব না : মির্জা ফখরুল Jan 20, 2026