বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো চল্লিশ। অথচ সময় থেমে আছে যেন ছয় বছর আগের সেই দিনে। সুশান্ত সিংহ রাজপুত নেই—এই বাস্তবতা এখনও মেনে নিতে পারেননি তাঁর পরিবার ও অগণিত অনুরাগী। জন্মদিনের দিনটিতে আবারও আবেগঘন বার্তায় ভাইকে স্মরণ করলেন দিদি শ্বেতা সিংহ কীর্তি।
প্রতি বছর ২১ জানুয়ারি এলেই ভাইয়ের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন শ্বেতা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, সুশান্ত শারীরিকভাবে চোখের আড়ালে থাকলেও অনুভূতির জগতে তিনি আজও জীবন্ত। শ্বেতার কথায়, কে বলে তিনি নেই—প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে তাঁর অস্তিত্ব টের পান তিনি।
শ্বেতা লিখেছেন, সুশান্ত তাঁর চোখের সামনে নেই ঠিকই, কিন্তু হৃদ্স্পন্দনের মধ্যেই রয়ে গেছেন। হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন যেন ভাইয়ের উপস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই অনুভূতি শুধু স্মৃতির মধ্যে আটকে নেই, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিদির জীবনের প্রতিটি অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সুশান্ত। শ্বেতার ভাল-মন্দ, হাসি-কান্না, প্রার্থনা সবকিছুর মধ্যেই ভাইয়ের উপস্থিতি অনুভব করেন তিনি। গত ছয় বছরে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, সুশান্ত কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকেননি।
শ্বেতার উপলব্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে সুশান্তের অনুরাগীদের ভালবাসা। তাঁদের আবেগ, শ্রদ্ধা আর স্মরণ তাঁকে বুঝিয়েছে, ভাইকে কোনও গণ্ডির মধ্যে বাঁধা যায় না। সুশান্তের চিন্তাধারা, স্বপ্ন, পৃথিবীর প্রতি কৌতূহল ও ভালবাসা তাঁকে অনেকের হৃদয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে।
দিদির বিশ্বাস, মৃত্যুর পরেও সুশান্ত অন্য সবার মতো শুধু স্মৃতি হয়ে যাননি। তাঁর অস্তিত্ব আজও জীবন্ত, যা অসংখ্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। জন্মদিনের বার্তায় তাই শুধু ভাইকেই নয়, তাঁর অনুরাগীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শ্বেতা।
এই জন্মদিনেও সুশান্তকে ঘিরে আবেগ, ভালবাসা আর না ফুরোনো স্মৃতিই যেন আবার মনে করিয়ে দিল- তিনি নেই, তবু সকলের মাঝেই তিনি আছেন।
এমকে/টিএ