টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের বিপরীতে গতকাল (২২ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীঢ়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন নিরাপত্তাশঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না।
বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলংকা হলে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে তাই আবারও আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুরোধ রাখবে কি না সেটা সময়ই বলবে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি অনুরোধ না রাখে আইসিসি, তাহলে বিশ্বকাপ দর্শক হয়ে দেখতে হবে বাংলাদেশকে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আইসিসি থেকে বার্ষিক আয় হারানোর শঙ্কা
বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে না খেললে আইসিসি থেকে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আইসিসি থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্বের ভাগ হারাতে পারে। আইসিসি থেকে আসা বিসিবির বার্ষিক আয় প্রায় ৬০% শতাংশ। যা হারাতে পারে। সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছরের বরাদ্দ কমিয়ে দিতে পারে আইসিসি।
সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পনসরশিপের ক্ষতি
বিসিবির আয়ের মোটা একটা অংশ আসে সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি না খেলে বিসিবির সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়বে অফিশিয়াল সম্প্রচারক চ্যানেল টি-স্পোর্টস ও বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘রেভস্পোর্টজ’ জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়তে পারে টি-স্পোর্টস। অন্যদিকে ১০০ কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর।
অংশগ্রহণ ফি ও প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবে
বিশ্বকাপে না খেলার কারণে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অংশগ্রহণ ফি পাবে না বাংলাদেশ। এছাড়া টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে উত্তরণের জন্য বড় অঙ্কের প্রাইজমানি আয়ের সুযোগও হাতছাড়া হবে। সঙ্গে খেলোয়াড়েরা ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবে।
যেসব সংকটের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে সামনের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হারাতে পারে। ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছাতে পারে। তাতে দ্বিপক্ষী সিরিজ না হলে আর্থিক ক্ষতি হবে। আইসিসির বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধির সংখ্যা কমতে পারে।
আইকে/টিএ