মুম্বাইয়ের রাস্তায় এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুহানিকা ধাওয়ান। প্রতিদিনের মতোই একা যাতায়াত করতে গিয়ে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার সময়। প্রতিদিন যে পথ দিয়ে যাতায়াত করেন, সেই পরিচিত পথেই ভাড়া করা গাড়িতে উঠেছিলেন রুহানিকা। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণ পরেই তিনি লক্ষ করেন, গাড়িচালক হঠাৎ করেই অন্য পথে মোড় নিচ্ছেন। অভিনেত্রীর কাছে সেই রাস্তা ছিল সম্পূর্ণ অচেনা এবং অপ্রয়োজনীয়। পথ নির্দেশনার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চালক ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
রুহানিকা বারবার চালককে সঠিক পথে যাওয়ার কথা বললেও তিনি তাতে কোনো গুরুত্ব দেননি। বরং নিজের মতো করেই গাড়ি চালাতে থাকেন। ধীরে ধীরে অভিনেত্রী বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং চালকের আচরণ সন্দেহজনক। তিনি গাড়ি থামাতে বললেও প্রথমে চালক তা অগ্রাহ্য করেন। এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর আচরণ। চালক অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলতে থাকেন বলে জানান রুহানিকা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে শেষ পর্যন্ত চিৎকার শুরু করেন অভিনেত্রী। তখনই গাড়ি থামাতে বাধ্য হন চালক। দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়েন রুহানিকা এবং পরে পাতালরেলে চেপে বাড়ি ফেরেন। জনবহুল শহরের রাস্তায় এমন অভিজ্ঞতার পর আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
এই ঘটনার পর এক ছাত্রী ও একজন মহিলা হিসেবে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুহানিকা। তাঁর কথায়, এমন অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিদিন অসংখ্য নারী ভাড়া করা গাড়ির উপর নির্ভর করে একা যাতায়াত করেন। সেই জায়গায় গাড়ির ভেতর অন্তত নিরাপদ বোধ করার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু এমন ঘটনা সেই বিশ্বাসকে নড়িয়ে দেয় বলেই মনে করছেন অভিনেত্রী।
রুহানিকার এই অভিজ্ঞতা নতুন করে মহিলাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উপর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে অনেককেই।
পিআর/টিএ