অভিবাসী চোরাচালানের শাস্তি কঠোর করছে গ্রিস

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) জানিয়েছে, অভিবাসী চোরাচালানের শাস্তি কঠোর করতে তারা পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল জমা দিয়েছে। এর মধ্যে আজীবন কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
গ্রিসের অ্যাথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

২০১৫ সালে ইউরোপীয় অভিবাসন সংকটের চূড়ান্ত সময়ে সিরীয় শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের প্রধান রুট ছিল গ্রিস। দেশটিতে সহায়তা কর্মী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিবাসীদের অবৈধ পাচারের শাস্তি সব স্তরে কঠোর করা হবে। পাচারকারীদের জন্য আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এবং অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অভিবাসীদের সরাসরি বহিষ্কার করা হতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নিয়মিত অবস্থানকারী অভিবাসীরা অনিয়মিত অভিবাসীদের সহায়তা করলে সেটিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিবাসন মন্ত্রী থানোস প্লেভ্রিস আগে একটি অতি-ডানপন্থি দলের সদস্য ছিলেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসী পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তি বাড়ানো হবে, যার মধ্যে কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি পর্যালোচনা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ডক্টরস অব দ্য ওয়ার্ল্ড এবং ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের গ্রিস শাখাসহ ৫৬টি এনজিও যৌথ বিবৃতিতে আইনটির কয়েকটি ধারা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের কোনো সদস্য অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং কয়েক হাজার ইউরো জরিমানা করা হবে।

তারা আরও অভিযোগ করেছে, মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে, এমনকি দোষী সাব্যস্ত না হলেও সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বাদ দিতে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

নতুন আইনের মাধ্যমে অভিবাসন মন্ত্রণালয় বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় দেশের শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, হাই-টেক কোম্পানির কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা তৈরি করা এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত আবাসিক অনুমতি দেওয়া।

আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য শ্রম-ঘাটতিপূর্ণ খাত-যেমন নির্মাণ, কৃষি ও পর্যটনে প্রবেশে সহায়তা করতে পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img

নাটোর-১ আসনে

বিএনপি প্রার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জরিমানা Jan 25, 2026
img
আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ঢাকার আকাশ Jan 25, 2026
img
কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-ইউক্রেন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক Jan 25, 2026
img
কুড়িগ্রাম-২ ও ৩ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাফিউর Jan 25, 2026
img
রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক আজ Jan 25, 2026
img
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূমিকম্প Jan 25, 2026
img
চট্টগ্রামে তারেক রহমানের অপেক্ষায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ, জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা Jan 25, 2026
img
ঢাবি ক্যাম্পাসে ভাসমান দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সমাবেশ Jan 25, 2026
img
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ Jan 25, 2026
img
ফরিদপুর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার Jan 25, 2026
img
ঘরের মাঠে প্রথম হারের স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ Jan 25, 2026
img
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়: প্রধান উপদেষ্টা Jan 25, 2026
img
সহজ জয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমালো ম্যানচেস্টার সিটি Jan 25, 2026
img
অভিবাসী চোরাচালানের শাস্তি কঠোর করছে গ্রিস Jan 25, 2026
img
দীর্ঘ দিন হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন অভয় দেওল! স্টেম সেল থেরাপিতেই কমল যন্ত্রণা Jan 25, 2026
img
রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে বার্সেলোনার মেয়েরাও জিতল সুপার কাপ Jan 25, 2026
img
গাজীপুরে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮ Jan 25, 2026
img
সিগারেটকে অনেক ছেলে-মেয়ে ফ্যাশন মনে করে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Jan 25, 2026
img
এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সেলোনাকে টপকে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ Jan 25, 2026
img
শিক্ষার্থীদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার কারণে মাদরাসা শিক্ষককে জরিমানা Jan 25, 2026