গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছিল, আইসিসির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে আইসিসি বোর্ডের ভোটে ১৪-২ ব্যবধানে হেরে বাংলাদেশের ভেন্যু বদলের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও তখনই বাংলাদেশের ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যায় অনেকটাই।
এরপর বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থান অনড় রেখে আইসিসিকে শেষ চিঠিটি পাঠায়। অবশেষে শনিবার আইসিসি নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বদলে তারা স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসি যখন এই সিদ্ধান্ত জানায় তখন মিরপুরে চলছিল বিসিবির সভা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বিসিবি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি বা সালিশি পথে হাঁটবে না।
সভা শেষে বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, এই বিষয়ে বোর্ড আর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি সেখানেই শেষ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে আইসিসির সঙ্গে নতুন করে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাইছে না বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে আমজাদ বলেন, 'আমরা আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছি। যেহেতু আইসিসি বলেছে যে, আমরা খেলতে যেতে পারব না বা শ্রীলংকায় আমাদের খেলা স্থানান্তর করতে পারবে না তারা, এই ক্ষেত্রে আমরা ভারতে গিয়ে খেলতে পারছি না। আমাদের অবস্থান ওখানেই আছে। এখানে আমাদের আর আলাদা কোনো আরবিট্রেশন বা কিছুর মধ্যেই আমরা যাচ্ছি না।'
গত বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান বাংলাদেশ দল ভারতে যাচ্ছে না। এই সিদ্ধান্ত একান্তই সরকারের। বিসিবি ও ক্রিকেটাররা সরকারের সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছেন। আমজাদও জানিয়েছেন একই কথা। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনেই বাংলাদেশ আইসিসিকে জানিয়ে দেয় ভারতে যাবে না বাংলাদেশ দল।
আমজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আইসিসি বোর্ড সভার পর বাংলাদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মিটিং ছিল এবং ওখানে সিদ্ধান্ত আসে। সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আমাদেরকে ওই সূচিতে যদি পরিবর্তন না হয়, ভারতে গিয়ে আমাদের দল অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এটা সরকার থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওটার পরে আমরা পরবর্তীতে আইসিসি বলেছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপ্লাই করতে। আমরা তাদেরকে আবারও জানিয়েছি বিনয়ের সঙ্গে, এই ফিক্সচার অনুযায়ী আমাদের পক্ষে খেলতে যাওয়া সম্ভব না।'
এসএস/টিকে