গত কয়েক দিন ধরে ভক্তদের মনে দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছিল। হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রণিতা দাসকে। তীব্র পেটের সমস্যা ও অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগে পড়েন অনুরাগীরা।
তবে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে অসুস্থতার কাছেই হার মানতে দেননি রণিতা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরই আবার কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মেকআপ ভ্যানে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। শনিবার সকালে ‘ও মোর দরদিয়া’ ধারাবাহিকের শুটিং ফ্লোরে পা রাখতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সহকর্মীরা। বহুদিন পর ‘বাহা’ চরিত্রে জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে ফিরে পেয়ে যেন নতুন প্রাণ ফিরে আসে সেটে।
রণিতার কাছে কাজের জগৎ থেকে দূরে থাকা মানেই মানসিক কষ্ট। তাই শরীরে ক্লান্তি থাকলেও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি তিনি। সেই দিনটি শুটিং ইউনিটের কাছেও ছিল বিশেষ। পরিচালক পাভেলের জন্মদিন উপলক্ষে সেটে কেক কেটে ছোট্ট উদযাপন হয়। একই সঙ্গে রণিতার মুখে হাসি ফেরাতে শুটিং ফ্লোরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বিশেষ বন্ধু সোমনাথ।
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রণিতা ও সোমনাথের। খুনসুটিতে ভরা মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। পেশায় অভিনেতা ও মডেল সোমনাথকে একাধিক ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছে। বন্ধুর উপস্থিতিতে মানসিকভাবে আরও শক্ত হয়ে ওঠেন রণিতা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘ও মোর দরদিয়া’ রণিতার অভিনয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারাবাহিক। দীর্ঘ বিরতির পর এই কাজ দিয়েই আবার মুখ্য চরিত্রে ফিরছেন তিনি। তাই শুটিং যাতে কোনওভাবেই থমকে না যায়, সে বিষয়েও নিজে বিশেষ নজর রাখছেন অভিনেত্রী। যদিও চিকিৎসকরা আপাতত তাঁকে বাড়তি পরিশ্রম না করা ও কড়া খাদ্যনিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
অসুস্থতাকে পেছনে ফেলে রণিতার এই প্রত্যাবর্তন শুধু তাঁর ভক্তদের কাছেই নয়, গোটা টেলিপাড়ার কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকল।
পিআর/টিকে