আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নয়। তথ্য বিশ্লেষণ, ভিডিও পর্যবেক্ষণ কিংবা পারফরম্যান্স মূল্যায়নে প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য অংশ। তবে সেই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যে চাকরি হারানোর কারণও হতে পারে, তার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মরেনো।
গ্রানাডা ও মোনাকোর মতো ক্লাবের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করা এই কোচ ২০২৩ সালে রাশিয়ার ফুটবল ক্লাব এফসি সোচির ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই তাকে বরখাস্ত করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বরখাস্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, রবার্তো মরেনো নিজের কোচিং সিদ্ধান্তে অতিমাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করতেন। ট্রেনিং সেশনের পরিকল্পনা, ম্যাচ কৌশল নির্ধারণ, এমনকি কোন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া বা ছেড়ে দেওয়া উচিত-এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তিনি এআইভিত্তিক পরামর্শ অনুযায়ী নিতেন। বিষয়টি ধীরে ধীরে ক্লাবের ভেতরে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, একবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শ অনুসরণ করে তিনি খেলোয়াড়দের টানা আটাশ (২৮) ঘণ্টা জেগে থাকার একটি কঠোর নিয়ম চালু করেছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের মতে, এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দলের সামগ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শেষ পর্যন্ত এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে এফসি সোচি কর্তৃপক্ষ রবার্তো মরেনোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে-প্রযুক্তি কতটা সহায়ক আর কোথায় গিয়ে তা হয়ে উঠতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ।
টিকে/