জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি অগণিত কালজয়ী সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০০৬ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক শুরু হয় এবং ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ সিনেমার জন্য তিনি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেন। এছাড়া ‘চন্দ্রগ্রহণ’সহ অনেক হিট সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এবার বাংলাদেশ সরকারের কাছে চলচ্চিত্রশিল্পের সংগীত-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের ‘চলচ্চিত্রশিল্পী’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানালেন তিনি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ন্যানসি তার ফেসবুকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি লিখিত আবেদন প্রকাশ করেন।
পোস্টে ন্যানসি সিনেমার গানের শিল্পীদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে এফডিসির আওতাধীন তাদের ‘চলচ্চিত্রশিল্পী’ হিসেবে বিবেচনা করা এবং সেই অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির দাবি জানান।
চলচ্চিত্রমাধ্যমের সংগীতবিষয়ক কলাকুশলীদের পক্ষে ন্যানসি লেখেন, ‘এই উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে গান একটি শক্তিশালী উপকরণ। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকেই গানের মাধ্যমে প্রায়ই চলচ্চিত্রের প্রচার, প্রসার ও ব্যবসায় সফলতা পেয়ে আসছে। আমরা কণ্ঠশিল্পী এবং চলচ্চিত্রের গান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কলাকুশলী তথা গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, আবহসংগীত পরিচালকগণ তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়ে থাকি।
আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন, ‘কষ্টের বিষয় বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) অধিনস্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় গানের কলাকুশলীদের বিবেচনা করা হয় না। শিল্পী সমিতি নামক যে সংগঠন রয়েছে সেখানে আমাদের সদস্যপদ ও ভোটাধিকারও নেই। আমরা যখন বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে প্রবেশ করি সেখানে পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির আলাদা কক্ষ দেখতে পাই। চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হয়ে আমাদের সংগীত-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বা বসার ব্যবস্থা পর্যন্ত এত বড় আকারের একটি প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাইনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্রাম, রিফ্রেশমেন্ট বা চর্চার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নির্ধারিত নেই। মহিলা শিল্পীদের অবস্থা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়। অথচ যেকোনো উৎসব বা আয়োজনে আমাদের গানের শিল্পীদের ডাকা হলেও বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে আমরা আজও চরমভাবে অবহেলিত। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে নানা আলোচনায় এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ বিষয় তুলে ধরেছি কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি।’
ইন্ডাস্ট্রির কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অবতারণা করে ন্যানসি আরও লেখেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রমাধ্যমের একটি অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকায় থাকার পরেও নিজেদের একটি বসার ব্যবস্থা নেই, যা চলচ্চিত্র মাধ্যমের শিল্পী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য বেদনাদায়ক। তাই বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) সাথে আমাদের দূরত্ব মেটাতে এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিমিত্তে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে আপনার সংস্থায় একটি কার্যালয় তথা বসবার সুনির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করার বিনীত অনুরোধ করছি।’
সবশেষে এই কণ্ঠশিল্পী লেখেন, ‘আমাদের ভালোবাসার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফডিসি) যেন এই সমুদয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংগীত-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের চলচ্চিত্রশিল্পের একজন শিল্পী পদমর্যাদাকে আমলে নিয়ে উক্ত সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে আমাদের সামনের দিনের পথচলাকে আরও অংশগ্রহণমূলক এবং মূল্যায়িত করার ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হন।’
কেএন/টিকে