মধ্যপ্রাচ্যের গাজা অঞ্চল আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হেমাস সংগঠন তাদের দশ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রায় চল্লিশ হাজার সরকারি কর্মীকে নতুন ইউএস-সমর্থিত প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। খবরটি এমন সময় সামনে আসে, যখন গাজায় অস্ত্রসমূহ ছাড়ার আলোচনা চলমান। সূত্রের খবর, হেমাস চাইছে তাদের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরা নতুন প্রশাসনেও তাদের ভূমিকা বজায় রাখুক।
গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত চুক্তি অনুসারে গাজার নিয়ন্ত্রণের কিছু অংশ হেমাসের হাতে থাকে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল তাদের সৈন্য সংখ্যা কমাবে যদি হেমাস অস্ত্রসমূহ হস্তান্তর করে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় হেমাসের পুলিশ ও সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে।
হেমাসের গাজা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মীদের কাছে লেখা একটি চিঠিতে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুক। তবে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মীদের অধিকাংশই তাদের চাকরি ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে। সূত্র জানায়, হেমাস সরকারের প্রায় দশ হাজার পুলিশ কর্মী এই নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।
ইসরায়েল এই প্রস্তাবকে এখনো পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া, হেমাস এবং নতুন প্রশাসনের চেয়ারম্যান আলি শাথ এখনও সরাসরি কোনো বৈঠক করেননি। তবে হেমাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম জানিয়েছেন, তারা প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত, তবে অস্ত্রসমূহ নিয়ে আলোচনায় স্পষ্ট প্রস্তাব এখনও পাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গাজার পুনর্গঠন ও অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করবে একটি ট্রানজিশনাল প্রশাসন, যেখানে "বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন" অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সূত্রের খবর, হেমাস অস্ত্রসমূহ নীরপেক্ষ করতে রাজি হলেও তারা রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অধীনে অস্ত্র ও লড়াকু বাহিনী পরিচালনার দাবি করছে।
গাজার অন্যান্য সামরিক সংগঠনও অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয় আলোচনা করছে, তবে তারা নিরাপত্তাহীনতার ভয় পাচ্ছে। ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজার পরবর্তী ধাপ পুনর্গঠন নয়, বরং হেমাসকে নিরস্ত্র করা এবং ডিমিলিটারাইজেশন।
গাজা শান্তি চুক্তি ও হেমাসের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দিক থেকে এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। নতুন প্রশাসনে হেমাসের পুলিশ ও কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি, অস্ত্র হস্তান্তর ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনা কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
আইকে/এসএন