আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব তারকাদের মিলনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত হলিউড ছাড়তে শুরু করেছেন বহু তারকা। এবার সেই যাত্রায় নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, তাই তিনি ইউরোপে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন।
এর আগে এলেন অভিনেতা ডিজেনারেস ও তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি এবং জর্জ ও আমাল ক্লুনির মতো নামি দামি আরও বেশ কয়েকজন তারকাও রাজনৈতিক ও সৃজনশীল উদ্বেগের কারণে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ছেড়েছেন বা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
নিজের মতা প্রকাশে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কখনোই পিছিয়ে থাকেননি। ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য হলিউড তারকাদের আমেরিকা ত্যাগের এক অনিবার্য গণমিছিলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অস্কার মনোনীত এই তারকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, তিনি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবেন না। এর পেছনে তিনি ক্রমবর্ধমান এক সীমাবদ্ধ পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার কাজ করার স্বাধীনতাকে ব্যাহত করছে। স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অনেক প্রখ্যাত তারকা আমেরিকাকে বিদায় জানিয়ে ইউরোপে থিতু হচ্ছেন। তার এই অবস্থান হলিউডের সাথে শিল্পীদের সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান নীতির কারণে তিনি সম্ভবত আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন না। তিনি বলেন, ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। আমাদের উচিত এমন এক বাস্তবতা তৈরি করা যেখানে আমরা বাস করতে চাই।
সরাসরি যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন কি না, ‘স্পেন্সার’ খ্যাত এই তারকা অকপটে জবাব দেন, সম্ভবত না। আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকান সিনেমা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি ইউরোপে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা মার্কিন দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, তিনি সিনেমাগুলো আমেরিকানদের গলার ভেতর দিয়ে নামিয়ে দিতে চান।
ট্রাম্পের সাথে স্টুয়ার্টের অস্বস্তি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে বারবার পোস্ট করেছিলেন এবং তার তৎকালীন প্রেমিক রবার্ট প্যাটিনসনকে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘ভ্যারাইটি’র এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট ট্রাম্পকে তার প্রতি ‘মোহাবিষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর স্টুয়ার্ট এখন সেই ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন যারা আমেরিকা ছাড়ছেন। এলেন ডিজেনারেস এবং তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। রোজি ও’ডোনেলও আমেরিকা ত্যাগ করেছেন।
‘অ্যাভাটার’ নির্মাতা জেমস ক্যামেরন, যিনি তার ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজের জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন, জানিয়েছেন তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা কম। তিনি রসিকতা করে বলেন, তিনি সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য যাননি, গিয়েছেন নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে।
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ‘গেম অফ থ্রোনস’ অভিনেত্রী সোফি টার্নার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। জর্জ ও আমাল ক্লুনি ফরাসি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর নিশ্চিত করেছেন, তারা আমেরিকা ছাড়ছেন।
এদিকে ‘হাউস অফ কার্ডস’ তারকা রবিন রাইট যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন এবং আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হলিউডের নামি তারকাদের এভাবে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক দেখে মনে হচ্ছে, অনেকেই হয়ত খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে শান্তি ও মানসিক সুস্থতার খোঁজে অচিরেই বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নেবেন।
এবি/টিএ