শীত বিদায় নেওয়ার পথে থাকলেও ত্বকের শুষ্কতা এখনো অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। আবহাওয়ার এই বদলের সময়ে ত্বকের যত্নে ভরসা রাখতে চান অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর। সে তালিকায় বরাবরের মতোই অন্যতম জনপ্রিয় জলপাই তেল। সহজলভ্য এই তেল দীর্ঘদিন ধরেই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে শোনা যায়, প্রাচীন মিসরের রানি ক্লিওপেট্রাও নাকি নিয়মিত সৌন্দর্যচর্চায় জলপাই তেল ব্যবহার করতেন। এই তেলে থাকা অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট ত্বককে ভেতর থেকে ভালো রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক গবেষণাও বলছে, ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে জলপাই তেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে জলপাই তেলের ব্যবহার বেশ কার্যকর। এতে থাকা উপকারী ফ্যাটি এসিড ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে, সেই সঙ্গে টানটান ভাবও বজায় থাকে। শুধু উজ্জ্বলতা বাড়ানোই নয়, শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের সমস্যাও ধীরে ধীরে কমাতে পারে এই তেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলপাই তেলে থাকা ভিটামিন ই ও পলিফেনলের মতো উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের নিস্তেজ ভাব কমে এবং স্বাভাবিক জেল্লা ফিরতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে দাগছোপ হালকা করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এই তেল। ত্বকের ওপর জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস পরিষ্কার করতেও জলপাই তেল ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছেন রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা।
ব্যবহারের দিক থেকেও জলপাই তেল বেশ সহজ। যেকোনো ঘরোয়া ফেসপ্যাকের সঙ্গে অল্প পরিমাণ জলপাই তেল মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করা যায়। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক হয় নরম ও সতেজ। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল মিশিয়ে নিলে শরীরের শুষ্কতাও অনেকটা কমে আসে। আবার খুব অল্প পরিমাণ নিয়ে হালকা চাপে মুখে লাগালে এটি সিরামের মতো কাজ করে।
নিয়মিত যত্নে জলপাই তেল ত্বককে রাখে কোমল, আর্দ্র ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় ভরপুর। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমকে/এসএন