সাম্প্রতিক সময়ের বাস্তব ঘটনা তুলে ধরার সাহস এখনো টালিগঞ্জে অনেক নির্মাতার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনীতি, ক্ষমতা, ছাত্র আন্দোলন এইসব বিষয়কে স্পর্শ করলে যেন অদৃশ্য এক লাল রেখা টানা হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাজ চক্রবর্তী-এর ছবি ‘হোক কলরব’ আলাদা হয়ে নজর কাড়ে। কারণ এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক অস্বস্তিকর সময়ের দিকে সরাসরি তাকানোর সাহসী চেষ্টা। পরিচালক শুরুতেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ছবির অনুপ্রেরণা একটি বাস্তব ও বেদনাদায়ক ঘটনা।
ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘যদুপুর’ হলেও ঘটনার প্রবাহে বাস্তবের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই। চিত্রনাট্যকার সৌভিক ভট্টাচার্য গল্পটিকে সরল পথে এগোয়নি; পুরো ছবিটিই থ্রিলারের কাঠামোয় তৈরি। রহস্য, উত্তেজনা এবং ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকা বিভিন্ন স্তর দর্শককে শেষ পর্যন্ত বসিয়ে রাখে। রাজ চক্রবর্তী নিরপেক্ষতার ভান না করে দর্শককেই প্রশ্নের মুখোমুখি করেন।
ছবির অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুলিশি তদন্ত। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় খ্যাত পুলিশ অফিসার ক্ষুদিরাম চাকীর চরিত্র ছবির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেছেন। তার জিজ্ঞাসাবাদ, ছাত্রদের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন এবং সংলাপের জোর চোখে পড়ে। তবে চরিত্রের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তীতে আরও গভীরভাবে না এগোনায় কিছুটা কম প্রভাব ফেলে।
অভিনয় দিক থেকে ছবিটি প্রশংসার দাবি রাখে। একঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখ নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। গৌরব, অর্ঘ্য, ফারহান, সৌম্য, অসিত, মনোতোষ এই সব ছাত্র চরিত্রে জন ভট্টাচার্য, আকাশ, ওম সাহানি, দেবদত্ত, পূষণ ও সামিউল আলম আলাদা করে মনে রাখার মতো অভিনয় করেছেন। দু’টি ছোট নারী চরিত্রেও শ্রেয়া ও অভিকা সাবলীল অভিনয়ে গল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন।
সঙ্গীত ছবির আবহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। একটি গান বিশেষভাবে মনে থাকে ‘শৃঙ্খলা এনে দিতে পারে প্রতিকার, নাশকতা করা আর নয় দরকার’। লাইন দু’টিই ছবির মূল বক্তব্যকে তুলে ধরে। সবমিলিয়ে ‘হোক কলরব’ নিখুঁত নয়; কিছু জায়গায় চিত্রনাট্য আরও আঁটসাঁট হতে পারত, কিছু চরিত্রের পরিণতি আরও স্পষ্ট হলে ভালো লাগত। তবু সাহসী বিষয় নির্বাচন, শক্তিশালী অভিনয় এবং সংযত নির্মাণশৈলীর জন্য ছবিটি আলাদা গুরুত্ব দাবি করে।
পিআর/টিকে