মেলবোর্ন পার্কে আজ (শুক্রবার) যে লড়াই হলো, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। বিশ্বের এক নম্বর কার্লোস আলকারাজ ম্যাচের মাঝে ইনজুরির শঙ্কায় পড়েও আলেক্সান্দার জভেরেভকে হারালেন। সেমিফাইনালে পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের থ্রিলার জিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন তিনি। চূড়ান্ত স্কোর ছিল ৬-৪, ৭-৬ (৫), ৬-৭ (৩), ৬-৭ (৪), ৭-৫।
২২ বছর বয়সী আলকারেজ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন। সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জেতার খুব কাছে তিনি। প্রথম সেট ৬-৪ এ জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন আলকারাজ। দ্বিতীয় সেটে টাইব্রেকে জেতেন। তৃতীয় সেট জমে ওঠে নাটকীয়তায়, যখন আলকারাজ ঊরু ও কুঁচকির ব্যথায় মেডিক্যাল টাইম আউট চান।
গুরুতর ক্র্যাম্পিং ও পায়ের স্ট্রেইনে তিনি মেডিক্যাল টাইম আউট চাইলে কিছুক্ষণের জন্য ম্যাচ বন্ধ ছিল। তাতে জভেরেভ ও চেয়ার আম্পায়ারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। জার্মান ছিলেন ক্ষুব্ধ, চিৎকার করে বলছিলেন- ক্র্যাম্পের জন্য মেডিক্যাল টাইম আউটের অনুমতি নেই।
শেষ পর্যন্ত শারীরিকভাবে এগিয়ে থাকায় জভেরেভ টানা দুই সেট টাইব্রেকে জিতে পঞ্চম সেটে নেন। ম্যাচ নির্ধারণী সেটে একটা সময় ৩-১ এ লিড নেন তিনি। কিন্তু আলকারাজ হাল ছাড়েননি। দৃঢ়চেতা হয়ে ঘুরে দাঁড়ান এবং দর্শকদের কল্পনাকে হার মানান।
রড লেভার এরেনায় জভেরেভের একের পর এক আনফোর্সড এরর্সে ৫-৫ এ সমতা ফেরান আলকারাজ। জভেরেভ যেন ভেঙে পড়েন। আলকারাজও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কী হয়ে গেল। শেষ সেট জিতে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চার গ্র্যান্ড স্লামের সবগুলোতেই ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়লেন তিনি।
ফাইনালে আলকারাজের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে ইয়ানিক সিনার ও নোভাক জোকোভিচের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শেষে।
আলকারাজ তার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বাস, সবসময় বিশ্বাস রেখেছি। আমি সবসময় বলি যতই ঝড়ঝাপ্টা আসুক, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। তৃতীয় সেটের মাঝামাঝি সময়ে চোট পেলাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আগেও পড়েছি। কিন্তু আমি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াইনি। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছি।’
এসকে/টিকে