বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোট, এই ঐক্যকে নির্বাচিত করে, আমরা কথা রাখব। আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। পুরনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না। আমরা পেছনের দিকে দৌড়াব না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি।
বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বে সঙ্গে বলবে যে, আমিই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছে যুবক। বার্তা দিচ্ছি, আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।
বিএনপির উদ্দেশে ড. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে আপনারা ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই আপনারা হাত দিচ্ছেন।
আপনারা মা’দেরকে কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বোঝা যায় সারা দিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বোঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।
তিনি আরো বলেন, দেশবাসী রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুড়েছে। সে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।
জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাসুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।
এসকে/টিকে