বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চ চত্বরে আগামীকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অমর একুশে প্রতীকী বইমেলা। একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় ছোট-বড় অর্ধশতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি জানানো হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মেলার উদ্বোধন করা হবে এবং এটি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও বক্তৃতাসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন চলবে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি বইমেলা নয়-বরং একুশের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে ধারণ করে একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদও।
একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সরকার অমর একুশে বইমেলার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভেঙে এ বছর ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হাজার হাজার লেখক, শিক্ষার্থী, পাঠক, সৃজনশীল প্রকাশক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ ব্যাপক জনগণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরিষদের নেতারা বলেন, অমর একুশে বইমেলা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই বইমেলা আজ বিশ্বপরিসরেও স্বীকৃতি ও গুরুত্ব অর্জন করেছে, যার প্রমাণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি।
তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালে নির্ধারিত সময়ে বইমেলা আয়োজন করতে না পারা জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে একুশে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। এই মেলা নতুন লেখক ও পাঠক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসব।
অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি আনন্দময়, অসাম্প্রদায়িক ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয় বলে মন্তব্য করেন আয়োজকরা।
প্রতীকী বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা ও সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে-দি রিয়েল পাবলিশার্স, সৃজনী, জ্ঞান বিতরণী, নবরাগ প্রকাশনী, অনুজ প্রকাশন, অন্যপ্রকাশ, কাকলী প্রকাশনী, অনন্যা, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, তক্ষশীলা, জাগৃতি, শব্দবাড়ি প্রকাশনা, দশমিক, কেন্দ্রবিন্দু, চিলেকোঠা পাবলিকেশন, লালন বিশ্বসংস্থা, সৌম্য প্রকাশন, উদীচী, ভ্যানগার্ড পাবলিকেশন, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, নতুন দিগন্ত, সূচীপত্র, অনুপম প্রকাশনী, পাঠক সমাবেশ, কৌমুদী প্রকাশনীসহ আরও বহু প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এদিকে শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে মেলার স্থান পরিদর্শন করেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লালটু, প্রকাশক ও লেখক সাইদ বারীসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এবি/টিকে