‘হায়দার’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘কবীর সিং’ কিংবা ‘ফর্জি’। চিরাচরিত নায়কের ছকভাঙা চরিত্রে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করেছেন বলিউড অভিনেতা শহিদ কাপুর। পর্দায় দর্শকের সামনে নিজেকে মেলেও ধরেছেন সেভাবে। তাই বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে কখনোই ‘কমফোর্ট জোন’-এ থিতু হয়ে যাননি তিনি।
সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানালেন, ঠিক কোন দর্শন তাঁকে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পথ দেখায়।
এক সাক্ষাৎকারে শহিদ জানান, অস্কারজয়ী হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর একটি বক্তব্য তাঁর চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। টাইটানিক ছবির নায়কের একটি সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরে শহিদ বলেন, “আমি লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর একটা খুব ইন্টারেস্টিং ইন্টারভিউ পড়েছিলাম। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি প্রথমবার চিত্রনাট্য পড়েই বুঝে যাই চরিত্রটা কীভাবে করতে হবে, তাহলে আমি না বলে দিই।
কারণ সেটা আমার কমফোর্ট জোনের মধ্যে পড়ে। কিন্তু যখন বুঝতে পারি না কীভাবে চরিত্রটা ধরব, তখনই সেটা আমাকে টানে।’”
শহিদের কথায়, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর এই ভাবনাটাই তাঁকে সবথেকে বেশি নাড়া দেয়। “এর মানে দাঁড়ায়, আমার অভিনীত চরিত্রটা অবশ্যই কমফোর্ট জোনের বাইরে হতে হবে।
অর্থাৎ যা আমি আগে কখনও করিনি। সেইসব চরিত্রটিকে কখনও ফুটিয়ে তুলতে পারি, কখনও পারি না। কিন্তু নতুন একটা পাহাড়ে ওঠার ইচ্ছেটা সব সময়ই থাকে। একই পাহাড় বারবার ওঠার কোনও মানে নেই, শুধু এই কারণে যে সেটা আমি পারি। আসলটা হল খুঁজে চলা, অজানার প্রতি সেই ভয়টাই আমাকে টানে।
এই দর্শনেরই প্রতিফলন দেখা যাবে তাঁর আসন্ন ছবি ‘ও’রোমিও’-তে, যার পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। শহিদের কথায়, বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কাজ মানেই একেবারে আলাদা যাত্রা।
তিনি বলেন, ‘বিশাল স্যারের সঙ্গে কাজ করাটা সব সময়ই একটা জার্নি। কিন্তু তার মধ্যেও নতুন কিছু খুঁজে বের করতে হয়। যা লেখা আছে, সেটা তো লেখকের লেখা। কিন্তু আমি যদি চিরাচরিত ভঙ্গিতে অভিনয় করি, তাহলে সেটা আলাদা লাগবে না। গল্পটা প্রথমে আপনাকে ধরবে, এটা অনেক অভিনেতার ক্ষেত্রেই হয়। তাঁরা নানা ঘরানার গল্পে একই ধরনের চরিত্র করেন, ফলে কাজ আলাদা মনে হয়।’
শহিদ আরও যোগ করেন,“কিন্তু কিছু অভিনেতা আছেন, যাঁরা একই ঘরানার মধ্যেই চরিত্রটাকে একেবারে অন্যভাবে করেন। সেটাই আসলে অভিনয়ের শিল্প। একটা পরিচিত ফ্রেমের মধ্যেও নতুন কিছু যোগ করা—এই জায়গাটাই সবচেয়ে এক্সাইটিং।”
এসএন