মানব ইতিহাসে এমন বহু সভ্যতার সন্ধান মেলে, যাদের উত্থান ছিল বিস্ময়কর, কিন্তু পতন এসেছে হঠাৎ করেই। শত শত বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা নগর, শিল্প, জ্ঞানচর্চা আর সংস্কৃতি কখনো প্রকৃতির রোষে, কখনো মানুষের সংঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার আর ইতিহাসের দলিল আজও সেই হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর গল্প শোনায়।
পম্পেই সভ্যতা
খ্রিস্টাব্দ ৭৯ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত। মুহূর্তের মধ্যে ছাই আর লাভায় ঢেকে যায় সমৃদ্ধ নগর পম্পেই। বাসিন্দারা কেউ পালাতে পারেননি, ঘরবাড়ি, বাজার, থিয়েটার-সবকিছু জমাট ছাইয়ের নিচে চাপা পড়ে যায়।
শতাব্দীর পর শতাব্দী মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা এই শহর পরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উঠে আসে, যা আজও মানবসভ্যতার হঠাৎ পতনের এক জীবন্ত দলিল।
মায়া সভ্যতা
মধ্য আমেরিকার মায়া সভ্যতা ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও স্থাপত্যকলায় অসাধারণ উন্নত। কিন্তু নবম শতাব্দীর দিকে হঠাৎ করেই তাদের বহু নগর জনশূন্য হয়ে পড়ে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘ খরা, খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলেই এই পতনের কারণ। বিশাল পিরামিড আর খোদাই করা শিলালিপি আজও সাক্ষ্য দেয় এক হারিয়ে যাওয়া সোনালি যুগের।
মিনোয়ান সভ্যতা
ভূমধ্যসাগরের ক্রিট দ্বীপকেন্দ্রিক মিনোয়ান সভ্যতা একসময় বাণিজ্য ও শিল্পে ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৬০০ সালে সান্তোরিনি আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামি এই সভ্যতার ভিত নড়িয়ে দেয়। সমুদ্রবন্দর ধ্বংস হয়, বাণিজ্য থেমে যায়, ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায় তাদের প্রভাব।
সিন্ধু সভ্যতা
বর্তমান পাকিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গড়ে ওঠা সিন্ধু সভ্যতা নগর পরিকল্পনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৯০০ সালের পর থেকে তাদের নগরগুলো ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ বদল এবং অর্থনৈতিক সংকট-সব মিলিয়ে এক সময়ের উন্নত নগরগুলো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়।
আরআই/টিকে