বড় আকারে কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমে নেমেছে ঐতিহ্যবাহী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। এরই মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ তথা ৩৩ শতাংশ কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই ঘোষণা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তুপের মুখে পড়েছেন সংবাদমাধ্যমটির মালিক জেফ বেজোস।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন মতে, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমটির মুখপাত্র এক ঘোষণায় জানান, ওয়াশিংটন পোস্ট ব্যাপক ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কলেবর ছোট হয়ে আসবে।
‘স্পোর্টস অ্যান্ড বুকস’ ডেস্কের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বিদেশি সংবাদ কাভারেজ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং পত্রিকার দৈনিক ‘পোস্ট রিপোর্টস’ পডকাস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নিউজরুমের ‘শত শত’ কর্মী চাকরি হারাবেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়ন। পোস্টের কর্মীরা ওই ইউনিয়নের সদস্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ছাটাইয়ের পদক্ষেপে নিউজরুমের তিন শতাধিক সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরকে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রে সংবাদপত্রের মালিক জেফ বেজোস। ২০১৩ সালে প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমটি কিনে নেন তিনি এবং এর লক্ষ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে নানা কথা বলেন।
কিন্তু যখন সংবাদমাধ্যমে নানা পরিবর্তন ঘটছে, তখন তিনি কার্যত নীরব রয়েছে। কর্মীরা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর বুধবার সকালে কর্মীদের ইমেইল করে ‘বাড়িতে থাকতে’ বলা হয়। হঠাৎ এমন পদক্ষেপে অনেক কর্মচারী, সাবেক সম্পাদক ও পাঠক কাছে বেজোসের নীরবতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সমালোচনার একটি বড় অংশ এসেছে এই ধারণা থেকে যে, জেফ বেজোস এখন আর নিউজরুমের সঙ্গে আগের মতো সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মী প্রকাশ্যে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সাবেক প্রধান ফ্যাক্ট-চেকার গ্লেন কেসলার চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক কলামে লিখেছেন, বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন না… তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।’
এই মন্তব্যে অনেক কর্মীর সেই অনুভূতিই প্রতিফলিত হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সম্পাদকীয় ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো নিউজরুমের প্রয়োজনের চেয়ে অন্য বিবেচনায় প্রভাবিত।
পত্রিকাটির দীর্ঘদিনের লেখক স্যালি কুইন সিএনএনকে বলেন, কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বেজোস কেন ওয়াশিংটন পোস্ট-এ আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। কুইনের ভাষায়, ‘দেখে সত্যিই হৃদয় ভেঙে যায় যে, তিনি পত্রিকাটিকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না যে নিজে অর্থ জোগাবেন।’
পত্রিকাটির সাবেক নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন বলেন, সাম্প্রতিক ছাঁটাই ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর মধ্যে পড়ে।’ তার মতে, ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ব্যবসায়িক সংকট আরও তীব্র হয়েছে ওপর মহল থেকে নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে।
পোস্টের এক সাংবাদিক নাম না প্রকাশের শর্তে ছাঁটাই এর ঘটনাটিকে ‘রক্তবন্যা বইয়ে দেয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা দাবি করে, ব্যবসায়িক কারণেই এসব সিদ্ধান্ত।
এসএস/টিএ