শাহবাগ এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যমুনা চত্বরের বাইরে ও রাতে শাহবাগ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকে আহত হন।
একপর্যায়ে আহতদের মিছিলে পরিণত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জরুরি বিভাগে অবস্থানরত চিকিৎসকদের পাশাপাশি অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে বাড়তি চিকিৎসক এনে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পুলিশের লাঠিপেটায় মহিউদ্দিন রনি আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দফায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জে ইনকিলাব মঞ্চের অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। পরে সেখানে আবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এতে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অনেকে আহত হন। পরে আহতরা ধাপে ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, মহিউদ্দিন রনির শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং টিয়ারশেল গ্যাসের কারণে ইনহেলেশন ইনজুরি হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য আহতদেরও টিয়ারগ্যাস ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জরুরি বিভাগের সবাইকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহিউদ্দিন রনিকে পেছন দিক থেকে একজন জড়িয়ে ধরে রাখার পরও তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, আপনারা মেয়ে মানুষকে কেন মারছেন, কেন লাঠিপেটা করছেন?
এরপর কয়েকজন পুলিশ দলবদ্ধ হয়ে রনিকে লাঠিপেটা করতে থাকে। একপর্যায়ে এ মারধরের কারণে রনি মাটিতে শুয়ে পড়েন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে আহত প্রায় ৬০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
তবে তাদের মধ্যে কারো দেহে গুলি বা পিলেট ইনজুরি নেই।
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন এবং এখনও রোগী আসছেন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনের শরীরে এক্সটারনাল ইনজুরি রয়েছে। এসব আঘাতের মধ্যে রয়েছে মাথা, মুখমণ্ডল, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতজনিত ক্ষত। এছাড়া অনেকেরই টিয়ারশেল গ্যাসের কারণে ইনহেলেশন ইনজুরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহতদের অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেক রোগীকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচালক জানান, চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে প্রায় ২০০ জন চিকিৎসক উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি নিজেও পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
চিকিৎসক, নার্স বা স্টাফের কোনো সংকট নেই। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রাউড কন্ট্রোল। একেকজন রোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন লোক চলে আসায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে, তিনি জানান।
জরুরি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, একসঙ্গে ২৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা অতীতেও, বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিপুল সংখ্যক রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হাসপাতাল সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।