সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, বরং জাতীয় পরিচয়, গণতন্ত্রচর্চা এবং একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির পাঁচ অধ্যায়ের ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ইশতেহারের পঞ্চম ও শেষ অধ্যায়ে শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলা হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান বলেন, ‘সংস্কৃতি অঙ্গনের বিকাশ ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
ইশতেহারে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধকে একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনৈতিক আকাশ-সংস্কৃতি ও জাতীয় মূল্যবোধবিরোধী সাংস্কৃতিক প্রবণতা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
একই সঙ্গে দেশের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংগীত, নৃত্য, নাটক, সাহিত্য, চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখাকে আরো সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী বৈশ্বিক সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।
জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চাকে উৎসাহিত করার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে দলটি। জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী অপসংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন চিন্তার বিকাশে সংস্কৃতির ভূমিকা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ইশতেহারে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে, যাতে শিশু-কিশোররা ইতিবাচক বিনোদনের মাধ্যমে বেড়ে উঠতে পারে।
সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। জাতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য জাতীয় পদক প্রদানের পরিসর আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননার সূচনা বিএনপির শাসনামলেই হয়েছিল।
এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বিনোদনের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শো’ চালুর ঘোষণাও দেন তারেক রহমান, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সৃজনশীল ধারায় গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কেএন/এসএন