© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কারাগার থেকে একে একে মুক্ত হচ্ছেন বিডিআর সদস্যরা, বরণ করছেন স্বজনরা

শেয়ার করুন:
কারাগার থেকে একে একে মুক্ত হচ্ছেন বিডিআর সদস্যরা, বরণ করছেন স্বজনরা
মোজো ডেস্ক
০৩:৫৮ পিএম | ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫
পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় জামিনের পর একে একে মুক্তি পাচ্ছেন বিডিআর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) মুক্তি পাওয়া বিডিআর সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাশিমপুর কারাগার থেকে শতাধিক বিডিআর সদস্য মুক্তি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন মোট ৪৭ জন। কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে ১৬৮ জনের মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে আরও ১০ জন বিডিআর সদস্যকে মুক্তি নির্দেশ দিয়েছে আদালত যারা আজই মুক্তি পাচ্ছেন।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আদালতের সব কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর তাদেরকে মুক্তি দিতে শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, কাশিমপুর-১ থেকে ২৬ জন, কাশিমপুর-২ থেকে ৮৯ জন, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি থেকে ১৩ জন মুক্তি পাচ্ছেন। ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া রোববার বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার জামিন প্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল চ্যানেল 24 কে বলেন, ১৬৮ জনের তালিকা হাতে পেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপরেই বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানরা সংস্থাটির সদর দপ্তর রাজধানীর পিলখানায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। তাদের হাতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ ব্যক্তি।

এই বিদ্রোহের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটির প্রতিবেদনে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার বিচার সেনা আইনে করার সুপারিশ করা হলেও উচ্চ আদালতের মতামতের পর সরকার প্রচলিত আইনেই এর বিচার করে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর একটি ছিলো হত্যা মামলা আর অন্যটি বিস্ফোরক আইনের মামলা।

খুনের মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। এতে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ২৭৮ জন খালাস পান। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর এই মামলায় হাইকোর্টের আপিলের রায়ও হয়ে যায়।

অপরদিকে বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন আসামি রয়েছে। মামলাটি হত্যা মামলার সঙ্গে বিচার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু মাঝপথে শুধু হত্যা মামলার সক্ষ্য উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য উপস্থাপন করেনি। এক পর্যায়ে বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম এক প্রকার স্থগিত করে দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যে কারণে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হতে বিলম্ব হয়।

মন্তব্য করুন