প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সাথে যুদ্ধ চায় না ইথিওপিয়া। এমনটিই জানিয়েছেন ইথিওপিয়ান প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া মূলত একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র এবং তাদের কোনও সমুদ্রসীমা নেই।
প্রতিবেশী দেশের সমুদ্রবন্দর জোর করে দখলের বিষয়ে ইথিওপিয়া ভাবছে বলে পূর্ববর্তী উদ্বেগের জেরে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়ার সমুদ্রে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু করার কোনও ইচ্ছা নেই বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ বলেছেন। এর আগে ২০২৩ সালে একটি পূর্ববর্তী বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, একটি সমুদ্রবন্দর থাকা দেশের জন্য “অস্তিত্বগত বিষয়”।
আর এটিই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল যে ইথিওপিয়া হয়তো জোর করে প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার একটি বন্দর দখল করতে পারে। মূলত অতীতে সম্পর্ক খারাপ থাকা এই দুই প্রতিবেশী আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন নতুন উদ্বেগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী আবি এই মন্তব্য করলেন।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল স্থলবেষ্টিত দেশের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কূটনীতি এবং পারস্পরিক সুবিধার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হলো ‘দেওয়া-নেওয়ার নীতি’র ভিত্তিতে আলোচনা করা। ইরিত্রিয়ার জনগণের যা প্রয়োজন তা হলো— উন্নয়ন, কোনও ধরনের সংঘাত নয়। আমাদের পরিকল্পনা যুদ্ধ করা নয় বরং একসাথে কাজ করা এবং একসাথে বেড়ে ওঠা।”
তবুও তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমুদ্রবন্দর ঘিরে আলোচনা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয় এবং বিশ্বব্যাপী নিয়মগুলো এই ধারণাকে সমর্থন করে যে— বৃহৎ দেশগুলোর সমুদ্রে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।
বিবিসি বলছে, ইরিত্রিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে বলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই বছরের গৃহযুদ্ধের ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ২০২২ সালের নভেম্বরে সেই সংঘাত শেষ হলেও টাইগ্রেতে রাজনীতিবিদরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শান্তি চুক্তির কিছু অংশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইরিত্রিয়া এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনে হস্তক্ষেপ করছে।
গত বৃহস্পতিবার টাইগ্রের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট গেটাচিউ রেদা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ইরিত্রিয়ার সাথে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন। মূলত ইরিত্রিয়া অতীতে গৃহযুদ্ধের সময় ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকারকে সমর্থন করেছিল।
গেটাচিউ বলেন, আমাদের বিশ্বাস করার কারণ আছে যে— এটাতে বহিরাগতরা জড়িত। ইরিত্রিয়া টাইগ্রেতে অস্থিরতাকে তাদের নিজস্ব স্বার্থের সুযোগ হিসেবে দেখছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে, ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত মঙ্গলবার রাজধানী আসমারায় কূটনীতিকদের তিনি বলেন, তার দেশ উত্তর ইথিওপিয়ার উত্তেজনায় জড়িত থাকার যেকোনও দাবি “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে।
কিন্তু গত সপ্তাহে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেডিয়ন টিমোটেওস আদ্দিস আবাবায় কূটনীতিকদের বলেন, টাইগ্রেতে অবস্থিত একটি দল ইরিত্রিয়ার সাথে যুক্ত রয়েছে বলে তার সরকার সন্দেহ করে। যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি তিনি।
১৯৯০-এর দশকে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে ইথিওপিয়া সমুদ্রে সরাসরি প্রবেশাধিকার হারায়। এরপর ১৯৯৮ সালে দেশ দুটি দুই বছরের সীমান্ত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী আবি ইথিওপিয়ায় ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
এফপি/টিএ