সিলেট নগরীতে গাছের ডাল কেটে নিজের ঈদ শুভেচ্ছাবার্তার বিলবোর্ড দৃশ্যমান করার ঘটনায় আলোচনা তৈরি করেছিলেন বিএনপি নেতা মো. আমির হোসেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিতর্কের মুখে বিলবোর্ড থেকে শুভেচ্ছা সরিয়ে নেন তিনি। তবে ঘটনার জেরে তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপি ব্যবস্থা নিয়েছে—সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আমির হোসেনের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৫ এপ্রিল) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউছ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আমির হোসেনের পদ স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সিলেট মহানগরের কয়েকটি স্থানে রোড ডিভাইডারের গাছ কেটে বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ ছাড়া আপনি দলীয় নির্দেশনা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের নজরে এসেছে। এই গর্হিত কাজের জন্য আপনার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সকল পদ আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।’
এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে সিলেট নগরের পনিটুলা ও মদিনা মার্কেট সড়কের মধ্যবর্তী সড়ক বিভাজনে বিলবোর্ডের সামনের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়।
গাছের সব ডালপালা কেটে ফেলার কারণ জানতে চাইলে গাছ কর্তনকারীরা জানান, বিলবোর্ডে তাদের নেতার ঈদ শুভেচ্ছা গাছের ডালের কারণে দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় ডালগুলো কেটেছেন তারা। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান।
এরপর বৃক্ষ কেটে ফেলার কাণ্ড নিয়ে গত ২৮ মার্চ গণমাধ্যম অনলাইনে ‘গাছের ওপর রাগ ঝাড়লেন বিএনপি নেতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুললে ওই রাতেই বিলবোর্ড থেকে ঈদ শুভেচ্ছা সরিয়ে ফেলেন মো. আমির হোসেন। পরে ‘ঈদ শুভেচ্ছার বিলবোর্ড সরিয়ে নিলেন সেই বিএনপি নেতা’ শিরোনামে ফলোআপ সংবাদ ছাপা হয়েছিল।
আরএ