পাঞ্জাবি পপস্টার গুরু রান্ধাওয়ার নাম বললেই প্রথমেই মনে পড়ে তার জনপ্রিয় গান লগদি লাহৌরে দি আ, যা বলিউডের স্ট্রিট ড্যান্সার থ্রি ডি ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই গানের সুর, নাচ আর প্রাণবন্ত কথায় দুই পাশের পাঞ্জাবি সংস্কৃতির মিলনের এক ঝলক পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নতুন গান আজুল ঘিরে তৈরি হয়েছে একেবারে উল্টো চিত্র, বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড়।
গানের ভিডিওতে গুরু নিজেকে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে হাজির করেছেন, যিনি স্কুলের বাস্কেটবল কোর্টে ছবি তুলতে এসেছেন। আর সেখানেই শুরু হয় সমস্যার জায়গা। ভিডিওতে এক স্কুলছাত্রীকে ললিপপ খেতে খেতে ক্যামেরায় ধরা হয়, পায়ের ওপর থেকে ক্যামেরা ধীরে ধীরে ওপরে উঠে যায়। এই ভঙ্গি, উপস্থাপনা ও ভিজ্যুয়াল ভাষা স্পষ্টতই অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনতার চোখে দেখানোর মতো।
গানের কথাতেও সমস্যার ইঙ্গিত। স্কুলছাত্রীর আবেদনকে তুলনা করা হয়েছে দামি মদের সঙ্গে। আজুল, ডন জুলিও আর হেনেসি—সবই আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। গানজুড়ে সেইসব মদের নেশা আর স্কুলছাত্রীর প্রতি আকর্ষণকে একই ছকে দেখানো হয়েছে। মানে, একদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ককে ফ্যান্টাসির বস্তু বানানো, অন্যদিকে সেটিকে মদের মতো বিলাসবহুল ও আকাঙ্ক্ষিত জিনিসে পরিণত করা—যা নিঃসন্দেহে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক বার্তা বহন করছে।
ভিডিওতে মেয়েটিকে ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নাচতে ও আচরণ করতে দেখা যায়। যেন সে পুরুষের কল্পনায় ঢুকে পড়েছে এবং সেখানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সমালোচকরা বলছেন, “মডেল আসলে প্রাপ্তবয়স্ক”, এই যুক্তি সমস্যার সমাধান করে না। কারণ চরিত্রটি স্কুলছাত্রী হিসেবেই দেখানো হয়েছে, আর সেই কস্টিউম, সেটিং ও ভিজ্যুয়াল ভাষাই দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
গুরু রান্ধাওয়ার এই গান নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন এক গানের মাধ্যমে কীভাবে শিশু যৌনতা আর ভোগবাদকে একসঙ্গে জড়িয়ে বিনোদনের মোড়কে পরিবেশন করা যায়।
এসএন