যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ টার্বুলেন্সের (ঝাঁকুনি ও অস্থিরতা) কারণে হিউস্টনগামী ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের একটি ফ্লাইট মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে চার হাজার ৩৫০ ফুট নিচে নেমে যায়। এ ঘটনায় দুই যাত্রী আহত হয়েছে। সিএনএনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
স্কাইওয়েস্ট পরিচালিত ফ্লাইট ৫৯৭১টি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলোরাডোর অ্যাসপেন থেকে উড্ডয়নের পর এ ঘটনা ঘটে বলে।
ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও আকস্মিক পতনের পর ফ্লাইটটি অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের অডিওতে শোনা যায়, এক পাইলট স্ট্রেচারের প্রয়োজনীয়তা এবং একজন যাত্রীর রক্তপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
স্কাইওয়েস্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং অবতরণের সময় চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে বিমানে থাকা সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতা। আমরা আমাদের অংশীদার ইউনাইটেডের সঙ্গে কাজ করছি যাত্রীদের সহায়তার জন্য। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে জানিয়েছে, কারো আঘাত প্রাণঘাতী হওয়ার আশঙ্কা নেই।’
ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৭ মিনিটে টেক্সাসের ফোর্ট ওর্থের কাছাকাছি ৩৯ হাজার ফুট উচ্চতায় তীব্র ঝাঁকুনিতে পড়ে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, রাত ১২টা ২৭ মিনিট ৬ সেকেন্ড থেকে ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ৩৯ হাজার ফুট থেকে ৩৪ হাজার ৬৫০ ফুটে নেমে যায়, পরে আবার এক মিনিটের মধ্যে ৩৭ হাজার ৪৫০ ফুটে উঠে যায়। এরপর বিমানটি অস্টিনে অবতরণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং রাত ১২টা ৩০ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে জরুরি অবস্থার সংকেত পাঠায়।
সম্প্রতি রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে আকাশপথে ভয়াবহ ঝাঁকুনি আরো বৃদ্ধি পাবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এ সমস্যা উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ—উভয়কেই প্রভাবিত করবে। ফলে বিমানের বাণিজ্যিক রুট যেটাই হোক না কেন, ঝুঁকি থেকেই যাবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভয়াবহ টার্বুলেন্স বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন বাতাসের প্রবল অস্থিরতার মধ্যে বিমানের ওঠানামার চাপ শরীরে এমন বল সৃষ্টি করে যে যাত্রী সিটবেল্ট না পরলে আসন থেকে ওপরে উঠে যেতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যু খুবই বিরল, তবে টার্বুলেন্সের ক্রমবর্ধমান ঘটনার কারণে যাত্রীদের আঘাত পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে বিমানের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন হতে পারে।
এফপি/ টিএ