কিংবদন্তী চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বুধবার সকাল ১১ টায় এফডিসিতে, দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ওইদিন বাদ আসর সিরাজগঞ্জে। জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় বাহির গোলা কবর স্থানে দাফন করা হবে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল লতিফ বাচ্চু (৮৪), (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস সংক্রমণ রোগে ভুগছিলেন আবদুল লতিফ বাচ্চু। এর বাইরে তার ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতাও ছিল।
রবিবার সকাল থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এরপর দ্রুত ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানান, সাড়ে বারোটায় তিনি মারা গেছেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক কবিরুল ইসলাম রানা আরো জানান, কয়েক মাস আগে তিনি (আবদুল লতিফ বাচ্চু) নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে অ্যারাম্বুলেন্স থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন।
জানা যায়, আবদুল লতিফ বাচ্চুর তিন সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাঁর সন্তান দেশে ফিরলে জানাজা নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হবে।
আব্দুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের আগে থেকে আব্দুল লতিফ বাচ্চু চিত্রগ্রহণের কাজে যুক্ত হন। শুরুটা সহকারী হয়ে, এরপর পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তার পথচলা শুরু।
সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমায় একক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনা ও কাজী জহিরের পরিচালনায় কাজ করেন ‘অবুঝ মন’ সিনেমায়। এরপর ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’ তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা।
জানা গেছে, আব্দুল লতিফ বাচ্চু ৬৫ সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন আর পরিচালনা করেছেন ৯টির মতো চলচ্চিত্র।
এসএন