চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে কিভাবে তিনি মারা গেছেন এ বিষয়ে পরিবার ও বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএসএফের হাতে আটকের পর তাদের নির্যাতনেই মারা গেছে রবিউল।
নিহত রবিউল ইসলাম (৩৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। এসময় রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব-ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালাতে সক্ষম হলেও রবিউল বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। আটকের পর রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলে বিজিবির কাছে অভিযোগ দেওয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, ভোর রাতে কয়েকজনের একটি দল মিলে ভারতে যায়। পরে জানতে পারি রবিউল ইসলামকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাই।
এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিএসএফের কাছে জানতে চেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, খালি গায়ে ও হ্যাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় রবিউলকে আটক করা হয়। এ সময় তার পুরো শরীর পানিতে ভেজা ছিল। পরে ক্যাম্পে নেওয়ার পর তাকে জামা-কাপড় দেওয়া হলেও তার শরীরে খিচুনি দেখা দেয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
বিএসএফ জানিয়েছে, সোমবার তার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।
বিএসএফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ ফেরত পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এ মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।
টিজে/টিএ