সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড মূলত স্পিন সহায়ক। আর সেই সিডনিতে কোনো স্পিনারকে ছাড়াই খেলতে নামলো অস্ট্রেলিয়া! রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া অ্যাশেজের শেষ টেস্টে একাদশে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনারকে রাখেনি অজিরা। ১৮৮৮ সালের পর সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এমন ঘটনা এবারই প্রথম।
১৩৮ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, আজ ঠিক সেটাই করলো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। অ্যাশেজের শেষ টেস্টে একাদশে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনারকে রাখেনি স্বাগতিকরা। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ জানিয়েছেন, কোনো উপায় না পেয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
সিডনি টেস্টে অফ স্পিনার টড মার্ফিকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় একাদশে নেয়া হয়েছে অলরাউন্ডার ওয়েবস্টারকে। আর তাতেই ভেঙে যায় ১৩৮ বছরের ইতিহাস।
প্যাট কামিন্স না থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন স্টিভ স্মিথ। তিনি বলেছেন, ‘এ রকম করতে একদমই ভালো লাগে না। কিন্তু যদি এমন উইকেটই বানানো হয় যেখানে স্পিন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সিমই বড় ভূমিকা রাখবে, ফাটলও থাকবে, তাহলে তো চুপচাপ মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’
এর আগে ব্রিসবেনে দিবারাত্রির টেস্টে অফ স্পিনার নাথান লায়নকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার চোটে সুযোগ পাওয়া টড মার্ফিকেও নেওয়া হয়নি মেলবোর্ন ও সিডনি টেস্টে।
সিডনিতে ইংল্যান্ডও তাদের একাদশে স্পিনার শোয়েব বশিরকে রাখেনি। তাতে টানা পাঁচ ম্যাচে তাকে বসে থাকতে হলো বেঞ্চে। অস্ট্রেলিয়া সফরে একটি বল করারও সুযোগ মেলেনি বশিরের।
অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ড, কোনো দলই আসলে স্পিনারদের সেভাবে ব্যবহার করেনি। পুরো সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনাররা বল করেছে ৭৩ ওভার, আর ইংলিশ স্পিনাররা করেছে ৫৯.৩ ওভার। প্রথম চার টেস্টে স্পিনারদের ঝুলিতে গেছে মাত্র ৯ উইকেট।
এর আগে স্মিথ বলেছিলেন, ‘যেখানে উইকেট এত সিম মুভমেন্ট দিচ্ছে, সেখানে প্রশ্নটা আসে- কেন স্পিন করবে? কারণ, ব্যাটসম্যানরা ইতিবাচক খেলতে শুরু করলেই আপনি দ্রুত ৩০-৪০ রান দিয়ে বসতে পারেন, ম্যাচের গতিপথও বদলে যায়। আমি চাই স্পিনাররা ভূমিকা রাখুক। কিন্তু এ মুহূর্তে বাস্তবতা হলো- কেনই–বা রাখব?’
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি অবশ্য মনে করেন না যে, এটি দীর্ঘমেয়াদি ধারা হয়ে যাবে। ‘আমি মনে করি, এটি সাময়িক ব্যাপার। বছরের পর বছর ধরে এমন চলবে, তা ভাবি না।’
সিডনি টেস্টে বৃষ্টির কারণে আজ খেলা হয়েছে মাত্র ৪৫ ওভার। ৩ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড।
এমআর/টিএ