নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী দেবলীনা, এখন হাসপাতালে

কলকাতার গায়িকা দেবলীনা নন্দী। তাঁর সুরের জাদুতে মুগ্ধ শ্রোতারা। একরাশ হাসি, প্রাণোচ্ছ্বাস আর মিষ্টি কণ্ঠেই অনুরাগীদের কাছে তাঁর পরিচয়। কখনও ঝলমলে মঞ্চে গান, কখনও আবার ঘরোয়া ভ্লগে একেবারে পাশের বাড়ির মেয়ের মতো সহজ-সরল উপস্থিতি।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, তাঁর জীবন বুঝি শুধুই সুখ আর সাফল্যের গল্প। কিন্তু সেই ধারণায় এবার চিড় ধরালেন স্বয়ং দেবলীনা। নিজের অজানা কষ্টের কথা সামনে এনে জানালেন, কীভাবে নীরবে তিলে তিলে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।


এখন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। গায়িকার আরোগ্য কামনায় তাঁর অনুরাগীরা। ২০২৪-এ পেশায় এক পাইলটের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। আপাতদৃষ্টিতে যে সম্পর্ককে রূপকথা মনে হত, তা-ই যেন দেবলীনার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল।

ফেসবুক লাইভে এসে যাবতীয় ক্ষোভ-দুঃখ ঢেলে দিলেন তিনি।

দেবলীনার কথায়, স্বামীর পরিবারের চাপেই ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। একসময় তাঁকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সংসার আর নিজের মায়ের মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গায়িকার অভিযোগ, তাঁর গানের ক্যারিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এই টানাপোড়েন ও মানসিক চাপই ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নেয়, যা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।



লাইভে এসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মেয়ে আর ছেলের মধ্যে এত পার্থক্য কেন? একটা ছেলে কি সংসার আর পেশার মধ্যে কেন একটা বেছে নিতে বলা হয় না? মেয়েদের ক্ষেত্রেই কেন এটা হয়? মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বলে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব শেষ? আমার মাকে নিয়ে অনেকের অনেক সমস্যা। সেটা আমার মা-ও জানে। প্রথম সমস্যা হচ্ছে, আমার মা নাকি দেখতে ভাল না।

দ্বিতীয় হল, মা নাকি পড়াশোনা জানে না। তৃতীয়, আমার মা নাকি যা বলে, মুখে উপর বলে। এটা নিয়ে কাছের লোক, দূরের লোক সকলেরই সমস্যা। এবার সমস্যা হল, আমার মাকে তাদের পোষায় না বলে, আমি মাকে ছেড়ে দেব। মা জাহান্নামে যাক, আমায় মাকে ছেড়ে দিতে হবে।”

এখানেই থামেন না দেবলীনা। জানান, যে মা তাঁকে জীবনে সফল হওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁকে ত্যাগের কথা তাঁর ভাবনাতীত। দুই পরিবারকে একই রকম গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও নাকি সন্তুষ্ট হয়নি গায়িকার স্বামীর পরিবার। শেষে তিনি বলেন, “আমি ভাল নেই। এই কথাটা বলতে বুকে অনেক সাহস লাগে। আজ বললাম। আমি সারাক্ষণ ভাল থাকার নাটক করি। কিন্তু আমি খুশি নেই। শুধু ভান করি। জীবনের ভাল জিনিসগুলোই সকলের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করি। কিন্তু এবার আমি হাঁপিয়ে গিয়েছি। একটা সীমা থাকে। সেই সীমা পার হয়ে গিয়েছে। সব কিছুর একটা শেষ আছে। ইতি টানা দরকার।”

এসকে/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহ্নিশিখা : কবীর ভূঁইয়া Jan 08, 2026
img
৩৬০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে পিএসএলের ২ দলের মালিকানা বিক্রি করল পিসিবি Jan 08, 2026
img
স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন ঢাবির ৪ শিক্ষক Jan 08, 2026
img

সুনামগঞ্জ-২ আসন

পাবেল চৌধুরীর মনোনয়নে দিরাই-শাল্লা বিএনপি উজ্জীবিত Jan 08, 2026
img
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা Jan 08, 2026
img
মুদ্রা ছাপাতে প্রতি বছর ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা : গভর্নর Jan 08, 2026
img
সচিবালয় কমিশনে সদস্য হবেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি: প্রেস সচিব Jan 08, 2026
img
রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না : রবিউল আলম Jan 08, 2026
img
ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ Jan 08, 2026
img
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে মিত্রদের থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ম্যাক্রোঁ Jan 08, 2026
img
নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে: ইসি Jan 08, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় বাণিজ্যের সুযোগ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা যেতে পারে Jan 08, 2026
img
'জুলাই বার্তাবীর' অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশ টাইমসের সাবেক মোবাইল জার্নালিস্ট জুবায়ের প্রধান Jan 08, 2026
img
কোচ পরিবর্তন করেও জয় পেল না ইউনাইটেড Jan 08, 2026
img
এবার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে শ্রীলীলা! Jan 08, 2026
img
গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি Jan 08, 2026
img
মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে দিল্লিতে তীব্র অস্বস্তি Jan 08, 2026
img
ভ্রমণে গিয়ে তৈমুর ও জেহকে ছবি তোলার শিষ্টাচার শেখাচ্ছেন কারিনা কাপুর Jan 08, 2026
img
এবারও সিলেটের কাছে হারলো ঢাকা Jan 08, 2026
img
বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো রাজাকার নেই : আখতারুজ্জামান Jan 08, 2026