রাজনীতির নামে কোনো ব্যবসায়ী বা নাগরিকের ওপর চাপ প্রয়োগ কিংবা চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
তিনি বলেছেন, দুর্বৃত্ত লালন করে রাজনীতি করি না। জনগণের সেবা করার জন্য রাজনীতি করি। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায্য রাজনীতি নিশ্চিত করতে কাজ করব। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত এলাকার মানুষকে সেবা করা, ভয় দেখানো নয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে শপিং কমপ্লেক্সে বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে রবিউল আলম এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক সাধারণ জনগণ। জনগণ, রাজনীতিবিদ ও সরকারের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ছাড়া জবাবদিহিমূলক সরকার ও গুণগত রাজনীতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জনগণ মালিক, আমরা রাজনীতিবিদরা সেবক। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে জনগণের কথা না শোনা- বাংলাদেশের রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা বদলাতে চাই।
এলাকার গ্যাস সংকট ও জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবাসিক খাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সিলিন্ডার ব্যবস্থায় নেওয়ার সরকারি নীতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এটি শুধু একটি এলাকার সমস্যা না, এটা জাতীয় সমস্যা। নির্বাচিত সরকার যদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আবাসিক গ্যাস লাইনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়, তাহলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। মানুষ গ্যাসের বিল দেয়, তাই তাদের গ্যাস পাওয়ার অধিকার আছে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে রবিউল আলম বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া রেইন ওয়াটার লাইনের কারণেই বর্ষায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও নতুন পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্বৃত্ত লালন করে রাজনীতি করি না। কোনো ব্যবসায়ী বা নাগরিকের ওপর রাজনৈতিক পরিচয়ে চাপ প্রয়োগ করলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই। আমি যদি আপনাদের প্রতিনিধি হই, তাহলে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কারও থাকবে না।
ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতির সমাজ গড়তে চাই- যেখানে জনগণ ও জনপ্রতিনিধি একসঙ্গে থাকবে। আপনারা দায়িত্ব দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের কথা নির্ভয়ে তুলে ধরব।
এ সময় স্থানীয় জনগণ ও ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরপি/টিকে