ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ধর্মেন্দ্র। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি শেষ পর্যন্ত পর্দায় দর্শকের জন্য নিজের নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। ‘ইক্কিস’—এটি ছিল ধর্মেন্দ্রের শেষ ছবি, যা ১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু নিজে অসুস্থ থাকায় নিজের শেষ কাজটি দেখা আর তিনি পেতে পারেননি।
সেপ্টেম্বর পর্যন্তও শুটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। শরীর ভাঙছিল, সোজা হয়ে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবু রাত আড়াইটে-তিনটের সময় নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ তাঁর ভেতরে প্রবল ছিল। নৃত্যপ্রশিক্ষক বিজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “একটি কওয়ালির দৃশ্যে বন্ধুর সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য শুটিং চলছিল। শরীরে শক্তি সঞ্চয় করছিলেন, তারপরও বারবার নৃত্যশিল্পীদের নাচের ভঙ্গিমা রপ্ত করার চেষ্টা করতেন। দলের সদস্যরা বললে, ‘আপনি খানিক নড়াচড়া করুন, যা স্বচ্ছন্দ মনে হয়, ততটুকুই করুন’, তাতেও তিনি প্রশ্ন করতেন, ‘আমি এটা কেন করতে পারব না?’”
বিজয় জানান, ধর্মেন্দ্রের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সেটে সবাইকে ধীরগতিতে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবু নাচের সময় তিনি নিজে উঠে দাঁড়াতেন এবং প্রতিটি স্টেপ সম্পূর্ণ নিবিড় মনোযোগ দিয়ে করতেন। অসুস্থতার পরও এই নিষ্ঠা এবং আগ্রহই প্রমাণ করে, কেন ধর্মেন্দ্র আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর।
‘ইক্কিস’-এর মধ্য দিয়ে নায়ক যে উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখে গেছেন, তা শুধুমাত্র নৃত্যশিল্প নয়, তাঁর পেশাদারিত্ব ও দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলনও। এই শেষ চলচ্চিত্রে দর্শক দেখেছেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও কিভাবে এক অভিনেতা নিজের কাজের প্রতি প্রেম প্রকাশ করতে পারেন।
এমকে/টিএ