ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনা পুনরায় শুরু করার অনুমোদন পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করছে বলে শুক্রবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুইটি সূত্র জানিয়েছে। রাশিয়ার তেল কেনা কমাতে ভারতের ওপর পশ্চিমা চাপ বাড়ার মধ্যে বেসরকারি এই পরিশোধন সংস্থাটি বিকল্প তেলের জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে।
সূত্রগুলো জানায়, অনুমোদন পেতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন নিয়ে যে আলোচনা এগোচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের বিশ্বের বৃহত্তম পরিশোধন কমপ্লেক্সে অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে লাইসেন্স পেয়েছিল ভারতীয় এই শিল্পগোষ্ঠী।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি পিডিভিএসএর অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ওই অনুমোদনের আওতায় ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে রিলায়েন্সকে চারটি কার্গো সরবরাহ করা হয়, যা দৈনিক প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেলের সমান। তবে মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ওয়াশিংটন পিডিভিএসএর ব্যবসায়িক অংশীদারদের অধিকাংশ লাইসেন্স স্থগিত করে এবং মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।
রিলায়েন্সের সর্বশেষ ভেনেজুয়েলান তেলের কার্গো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতে পৌঁছয়। রিলায়েন্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিধিমালার আওতায় যদি যুক্তরাষ্ট্র-বহির্ভূত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি অনুমোদিত হয়, তবে তারা ভেনেজুয়েলার তেল কেনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ক্রেতাদের কাছে যাবে। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীনকে তেল থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
সূত্রের একজন জানান, যদি আকর্ষণীয় দামে তেল পাওয়া যায়, তবে ভেনেজুয়েলায় খননের অধিকার থাকা মার্কিন কম্পানি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে আগ্রহী রিলায়েন্স। ভেনেজুয়েলার তেলের সরবরাহ ভারতকে রাশিয়া থেকে আসা কিছু তেলের বিকল্প জোগাতে পারে। রিলায়েন্স ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় রুশ তেল ক্রেতা, তবে ট্রাম্পের চাপে ভারত রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে চাপের মুখে থাকায় কম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি মাসে তারা রুশ অপরিশোধিত তেলের কোনো কার্গো নেবে না।