আড়াই বছর আগেই ভেঙে গেছে জীতু কমল ও নবনীতা দাসের সংসার, তবু সেই অধ্যায়ের রেশ এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি টেলিপাড়ার আড্ডা থেকে। একসময় পর্দায় আর বাস্তবে তাঁদের রসায়ন ছিল দর্শকের চোখে আলো ঝলমলে, অথচ সম্পর্কের সেই গল্প শেষ হয়েছিল নিঃশব্দে। বিচ্ছেদের পর থেকে নবনীতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল থামেনি, আর সেই কৌতূহলের কেন্দ্রেই ঘুরপাক খাচ্ছিল একটি প্রশ্ন তবে কি আবার বিয়ের পথে হাঁটবেন তিনি।
২০১৯ সালের ৬ মে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন জীতু ও নবনীতা। সেই সময় তাঁদের জুটি ছিল ভীষণ জনপ্রিয়, এমনকি তাঁরা একসঙ্গে রিয়্যালিটি অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষের কিছুদিন পরেই আসে বিচ্ছেদের ঘোষণা। আলাদা হওয়ার কারণ নিয়ে কখনোই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউই। নবনীতা শুধু বলেছিলেন, নিজেদের ভালো থাকার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। জীতু প্রথমে বিষয়টি মানতে না চাইলেও পরে ডিভোর্সের খবর সামনে আসে এবং ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নবনীতা সরাসরি জানিয়ে দিলেন, আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না তিনি। তাঁর কথায়, এখন যদি আবার নতুন করে সম্পর্কে এগোন, তবে পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই এই মুহূর্তে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করতেই চান না অভিনেত্রী। তাঁর কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট দৃঢ়তা, আবার খানিকটা সতর্কতাও।
এর মধ্যেই জীতুর নতুন ধারাবাহিক ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। মেগা সিরিয়াল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নাম ট্রেন্ড করতে থাকে। সেই সময় নবনীতার একটি বার্তাও নজর কাড়ে ভক্তদের। একটি বিদেশি তারকা দম্পতির ভিডিও ভাগ করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর ভবিষ্যৎ সঙ্গীর কাছ থেকে তিনি কেমন ভালোবাসা ও আবেগ আশা করেন। তবে সেই রোমান্টিক কল্পনার সঙ্গে বাস্তব সিদ্ধান্তের দূরত্ব স্পষ্ট এই মুহূর্তে বিয়ে তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।
সব মিলিয়ে বিচ্ছেদের পর নবনীতা ধীরে ধীরে নিজের মতো করে এগোচ্ছেন। কাজ, ব্যক্তিগত শান্তি আর আত্মসম্মান এই তিনটিই এখন তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে তিনি সময় নিতে চান, আর সেটাই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত।
পিআর/টিকে